গাইবান্ধায় ৫৪ বস্তা সার জব্দ, ২০ হাজার টাকা জরমিানা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

গাইবান্ধায় সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারে খুচরা সার ও কিটনাশক ব্যবসায়ী খাজা মিয়াসহ দুই দোকানীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দোকানে অবৈধভাবে সার পাচার ও মজুদের অপরাধে এই জরিমানা করা হয়। একই সাথে ৫৪ বস্তা সার (ডিএপি) জব্দ করা হয়েছে। 

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) জাহাঙ্গীর আলম বাবু। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমতলী এলাকায় ভ্যানগাড়িসহ ৫০ কেজির ২০ বস্তা সার জব্দ করে সাধারণ জনতা। পরে তারা সদর উপজেলা কৃষি বিভাগকে জানালে, কৃষি বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌছে সারগুলো জব্দ করে। 

পরে রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলম ও এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম বাবুর নেতৃত্বে সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী খাজা মিয়া, শাহাদাত হোসেন ও নির্মল বাবুর ঘর থেকে ৩৪ বস্তা সার (ডিএপি) জব্দ করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয় এবং ২০ হাজার টাকা নগদ জরিমানা করা হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার তুলসীঘাট বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী  খাজা মিয়ার দোকান ঘর থেকে ২০ বস্তা ডিএপি সার ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়িতে করে কামারজানি নৌ-বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের কদমতলী নামক স্থানে পৌঁছালে সারবাহী ভ্যানগাড়িটি দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এসময় ভ্যানে ঢেকে রাখা সারগুলোর বিক্রির রশিদ দেখাতে না পারলে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে (৫০ কেজির বস্তা) ২০ বস্তা সার  জব্দ করে খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখেন।

সারের বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্যান চালক মেহেদী বলেন, 'তুলসীঘাটের খাজা মিয়ার ঘর থেকে সারগুলো কামারজানি বন্দরের সার ব্যবসায়ী মনির মিয়ার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। খাজা মিয়া আমাকে কোন চালানের রশিদ দেননি।

স্থানীয়রা জানান, এর আগেও রাতে  তুলসীঘাটের সার ব্যবসায়ী খাজা মিয়ার ঘর থেকে কামারজানি নৌ-বন্দরের মনির নামের এক সার ব্যবসায়ীর কাছে পাচারের সময় সারভর্তি একটি মিনি ট্রাক এই একই স্থানে (কদমতলী) আটক করেছিল স্থানীয় লোকজন। সেসময় অভিযোগ করার পরেও ওই সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি কতৃপক্ষ। এসব সার কামারজানি ঘাট দিয়ে নৌপথে পাশ্ববর্তী জেলাগুলোকে পাচার করা হয়। কালোবাজারীরা এই পথে দীর্ঘদিন ধরে সার পাচার করে আসছে বলেও জানান স্থানীয়রা।

তারা আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে সার পাচার ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এসময় উপস্থিত রেজওয়ান হক্কানি নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, এলাকায় নিয়মিত সারসংকট চলছে। ডিলারের কাছে সার পাওয়া যায় না, পেলেও অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়। অথচ রাতের আঁধারে গোপনে অহরহ সার পাচার হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীর যোগসাজশেই সার পাচার হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, 'শনিবার রাতে অবৈধভাবে পাচারের সময় ২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়। রাত হওয়ায় জব্দকৃত সার খোলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সার পাচারের সূত্র ধরে রবিবার সকালে সদর সহকারী ভূমি কর্মকর্তার নেতৃত্বে সার পাচারে জড়িত খাজা মিয়াসহ দুই খুচরা সার ব্যবসায়ীর ঘর থেকে ৩৪ বস্তা ডিএপি সার জব্দ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মোট ৫৪ বস্তা সার নিলামে বিক্রি করে সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হবে। অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি জানান।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত