মাঠ ছাড়ার পর ফিরে এসে চ্যাম্পিয়ন হলো সেনেগাল

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

অভূতপূর্ব নাটকীয়তা, মাঠ ছেড়ে গিয়ে প্রতিবাদ এবং অতিরিক্ত সময়ের গোল—সব মিলিয়ে বিশৃঙ্খল এক ফাইনালে স্বাগতিক মরক্কোকে ১–০ গোলে হারিয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস শিরোপা জিতেছে সেনেগাল।

রবিবার রাবাতের প্রিন্স মৌলাই আবদেল্লাহ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সেনেগালের খেলোয়াড়রা মাঠ ত্যাগ করলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। পরে দলের অধিনায়ক ও তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানের অনুরোধে তারা মাঠে ফেরেন এবং শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নেন।

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ভিএআরের সাহায্যে কঙ্গোলিজ রেফারি জঁ-জ্যাক নডালা মরক্কোর পক্ষে একটি পেনাল্টি দেন। কর্নার কিকের সময় সেনেগালের ডিফেন্ডার এল হাজি মালিক দিউফের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে যান মরক্কোর তারকা ব্রাহিম দিয়াজ। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে সেনেগাল কোচ পাপে বুনা থিয়াও খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন।

প্রায় ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শেষ পর্যন্ত সেনেগাল আবার মাঠে ফেরে। খেলা পুনরায় শুরু হলে মরক্কোর সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রাহিম দিয়াজ। জয়সূচক পেনাল্টিতে তিনি প্যানেনকা স্টাইলে বল মারতে গিয়ে দুর্বল শট নেন, যা সহজেই ধরে ফেলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডি। এই মিসই যেন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৯৪তম মিনিট) শক্তিশালী শটে গোল করেন মিডফিল্ডার পাপে গেয়ি। মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুর কোনো সুযোগই ছিল না। এই গোলেই সেনেগাল নিশ্চিত করে শিরোপা। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচটি ছিল রুদ্ধশ্বাস। ৬৬ হাজার ৫২৬ জন দর্শকের গর্জনে স্বাগতিকদের সমর্থন পেলেও সেনেগাল ছিল নির্ভীক। উভয় গোলরক্ষকই বেশ কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেন।

সেনেগালের হয়ে এটি শেষ তিন আসরে দ্বিতীয় শিরোপা। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের শীর্ষ র‌্যাঙ্কিং দল মরক্কোর ২৭ ম্যাচের অপরাজিত ধারা শেষ হলো। মরক্কো এর আগে মাত্র একবার—৫০ বছর আগে—এই টুর্নামেন্ট জিতেছিল। জয়সূচক গোলদাতা পাপে গেয়ি বলেন, ‘আমরা সত্যিই এখানে জিততে চেয়েছিলাম। ম্যাচটা ভীষণ কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি।’

মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পাওয়ার পর জয় খুব কাছেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ফুটবল শেষ পর্যন্ত নিজের নিয়মেই চলে। যা ঘটেছে, তা আফ্রিকান ফুটবলের জন্য হতাশাজনক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত