বর্তমান নির্বাচন কমিশন কতটা সুষ্ঠুভাবে ভোট করতে পারবে, তা নিয়ে নিজেদের শঙ্কার কথা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকার ও অধ্যাপক ইউনূসের ওপর আসবে। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গতকাল সোমবার বিকেল ৫টা থেকে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেন তারা। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, ওই কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন ও আইনি সহায়তাবিষয়ক উপকমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম এতে অংশ নেন।
বৈঠক শেষে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত দু-তিন দিনের যেসব ঘটনা আগামী নির্বাচন এবং সমসাময়িক রাজনীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে, সেগুলো তুলে ধরেছেন তারা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ আচরণ মাঠে দেখা না যাওয়ার বিষয়গুলো তারা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসি যদি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করে, সেটা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে এবং নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন যদি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ না হলে এর দায় অন্তর্বর্তী সরকার ও অধ্যাপক ইউনূসের ওপর বর্তাবে।
বিএনপির চাপে ইসি দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছে অভিযোগ করে নাহিদ বলেন, বিএনপি ও দলটির ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) নির্বাচন কমিশনের সামনে ‘মব’ ও চাপ তৈরি করেছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশন রায় (প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তি) দেওয়ার আগেই রায়কে প্রভাবিত করেছেন। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যেও দ্বৈত নাগরিক আছেন। এটা কোনো দলের বিষয় নয়। আইনের প্রয়োগ যাতে সুষ্ঠু হয় এবং সব দলের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য থাকে সেটাই চায় এনসিপি। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই, যদি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ থাকে। কিন্তু যদি ইঞ্জিনিয়ার্ড (সাজানো) নির্বাচন করার পরিকল্পনা থাকে কারও, সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে এবং সেটা প্রতিহত করা হবে।
তারেক রহমানের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, যদি পরিকল্পনায় থাকে এই নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে হবে না, ভোটকেন্দ্র দখল, প্রশাসনে দলীয়করণ, নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়ে নিজের দলের পক্ষে রায় নিয়ে আসা হবে দেশের জনগণ ও তরুণসমাজ তা মেনে নেবে না। এজন্য পরিকল্পনাটা জনগণের সামনে স্পষ্ট করা উচিত।
