ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিসে’ যোগ দিচ্ছে যেসব মুসলিম দেশ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৪ এএম

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিসে’ অংশ নিতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার ৯টি মুসলিম দেশ। এসব দেশ গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন এই শান্তি উদ্যোগে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। পরে একই দিনে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বোর্ডে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।

যৌথ বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকার নিশ্চিত করাই ‘বোর্ড অব পিস’-এর মূল লক্ষ্য। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার হবে বলে তারা মনে করছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বোর্ড অব পিসের কাঠামো প্রকাশের কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণের ঘোষণা এসেছে। এই বোর্ডটি গাজায় ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বন্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বোর্ডে ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও যুক্ত রয়েছেন। বোর্ডটি গাজায় দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটির তত্ত্বাবধান করবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানায়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নং ২৮০৩-এর আওতায় প্রণীত গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করতেই তারা এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে, ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা বাড়ানো ও পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার করা যাবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। পাকিস্তান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির মতে, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার মধ্যে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা উচিত, যার রাজধানী হবে জেরুজালেম।

পাকিস্তান জানায়, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে ‘বোর্ড অব পিস’-এর সদস্য হিসেবে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। ফিলিস্তিনে শান্তি ও ন্যায়ের পক্ষে দেশটির অবস্থান দীর্ঘদিনের এবং ভবিষ্যতেও এই নীতিতে অটল থাকার কথা জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত