ইউরোপীয় দেশগুলো এ সপ্তাহে নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ডব্লিউ' আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে। মূলত মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। সুইস ডেটা বিশেষজ্ঞ আন্না জেইটারের নেতৃত্বে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম ২০২৬-এ এই প্ল্যাটফর্মের উদ্বোধন হবে।
ডেনিশ সংবাদমাধ্যম পলিটিকেন.ডিকে জানিয়েছে, 'ডব্লিউ'-এর ব্যবহারকারীদের নিজ পরিচয় নিশ্চিত করতে একটি ছবি জমা দিতে হবে। এটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট, বট এবং নকল পরিচয় প্রতিরোধের জন্য নেওয়া হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স-এ এখনও গোপন বা ছদ্মনাম ব্যবহার করা যায়।
আন্না জেইটার বলেন, 'পরিকল্পিত বিভ্রান্তি জনসাধারণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করছে। এজন্য একটি সামাজিক মাধ্যম দরকার যা ইউরোপে তৈরি, ইউরোপে পরিচালিত এবং হোস্ট করা হবে, যেখানে বাক স্বাধীনতা ও ডেটা গোপনীয়তা মূলনীতি হিসেবে থাকবে।'
আইনগতভাবে, 'ডব্লিউ' প্ল্যাটফর্মটি 'উই ডোন্ট হ্যাভ টাইম'-নামক মিডিয়া কোম্পানির একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। এর উন্নয়ন দল পুরো ইউরোপ জুড়ে থাকবে এবং বার্লিন ও প্যারিসে অফিস খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক্স-এর বিরুদ্ধে সমালোচনা বেড়েছে। সম্প্রতি ৫৪ জন ইউরোপীয় সংসদ সদস্য ইউরোপীয় বিকল্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন, কারণ তারা বলছেন, মাস্কের মালিকানাধীন নীতিমালার পরিবর্তনের পর এক্স-এ যৌন সহিংসতা এবং শিশুদের বিরুদ্ধে কনটেন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এক্স- এর কিছু বিকল্প চালু থাকলেও কোনটি এখনও বৈশ্বিক, রাজনৈতিক বা সংবাদগত প্রভাবের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
