ছাড়ের ছড়াছড়িতে বেচাকেনায় খুশি ক্রেতা-বিক্রেতারা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৫ এএম

রাজধানীর উপকণ্ঠে রূপগঞ্জের পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিভিশন সেন্টারে চলছে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। তৃতীয় সপ্তাহে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়। গতকাল কসমেটিকস, কাপড় ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত ক্রোকারিজ পণ্যের স্টলগুলোতেই ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া খাবারের স্টলগুলোতেও ছিল অনেকের সরব উপস্থিতি। দুটি কিনলে একটি ফ্রি ও এ ছাড়া পণ্যসামগ্রীতে ছাড়ের ছড়াছড়িতে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এসব স্টলগুলোতে। দর্শনার্থীদের কারও আকর্ষণ ঘর সাজানো সামগ্রী ঘিরে, কারও আবার নিজেকে সাজানোর উপকরণের দিকে।

মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে জানা গেছে, গতকাল ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলাপ্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে শুরু করে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউ বা বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন মেলায়। স্টলে স্টলে ঘুরে নানা পণ্য কিনছেন ক্রেতারা। কেউ বা মেতেছেন আড্ডায়, তুলছেন ছবি। কেউ খুঁজছেন তৈজসপত্র। কারও ব্যস্ততা ঘরসজ্জার পণ্য খুঁজতে। অনেকে আবার পছন্দের ফার্নিচার কিনছেন সাধ আর সাধ্যের মধ্যে। কারও কারও নজর ছাড়ের দিকে। তাই ছুটছেন দোকান থেকে দোকানে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর আনাগোনায় জমাজমাট বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ। ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের বিপুল আগমনে বিক্রেতারা খুশি। ছুটির দিনগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই উপচেপড়া ভিড় থাকে মেলাপ্রাঙ্গণে। বেচাবিক্রিও বেশ জমে ওঠে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফার ও পণ্য ছাড় দিচ্ছেন তারা। জেলখানার কারাবন্দিদের হাতে তৈরি হস্তশিল্পের পণ্যসামগ্রী পেয়ে খুশি ক্রেতারা। মেলায় নিরাপত্তায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি র‌্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাগসহ বিভিন্ন কিছু তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা।

এদিকে কাঞ্চন সেতুর উভয়পাশে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস সড়কের কাজ চলায় সেখানে নিত্যদিনের যানজট এবং ধুলাবালিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলেও জানান ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে, মেলায় শিশু বিনোদন কেন্দ্রে প্যাডেল বোট, হানিছি, সিøপার, হেলিকপ্টার, নাগরদোলা, নৌকা, ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে চড়ে আনন্দ নিচ্ছে শিশুরা। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এসব রাইডে চড়ছেন। হাজী বিরানি, মিঠাই, ঝটপট, তুর্কি রেস্টুরেন্ট, টেস্টি ট্রিট, ব্যাকেটসহ নানা খাবার স্টলে ভিড় করছেন ভোজনপ্রেমী দর্শনার্থীরা।

এ ছাড়া আরএফএল, দুরন্ত বাইসাইকেল, প্রাণ কোম্পানি, ডাচ-বাংলা, সুট সাফারি, থ্রি-পিস, ঢাকাই জামদানি, শীতের চাদর, জুতা, গৃহস্থালির নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিকসসামগ্রী, মোটরসাইকেল, স্কুটি, নিত্যপ্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম জিনিসপত্রসহ প্যাভিলিয়ন ও স্টলগুলোতে সাজানো নানা ধরনের পণ্যসামগ্রী ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত তৈজসপত্র, গৃহসজ্জা, কসমেটিকস কিংবা পোশাক আইটেম কিনতে বাণিজ্য মেলায় ছুটে এসেছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। পণ্যের গুণগতমান আর ছাড়ের টোপে ক্রেতাদের আটকাতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রয় প্রতিনিধিদেরও। মেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ভারী পণ্য থেকে শুরু করে একেবারে ছোট পণ্যটি একসঙ্গে পেয়ে ক্রেতারাও বেজায় খুশি।

ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, মেলায় এসে পছন্দের পণ্যসামগ্রী কিনতে পেরে তারা ভীষণ খুশি। বিশেষ করে অনেক কিছুতেই ছাড় দেওয়ায় সেসব সামগ্রী ক্রয় করে সন্তুষ্টির কথা জানান তারা।

মেলার টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মুনকাদির বলেন, মেলায় দিন দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রথম শুক্রবারের তুলনায় দ্বিতীয় শুক্রবারে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এবং তৃতীয় শুক্রবার ছুটির দিনে আজকে লাখেরও বেশি ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছেন।

বাণিজ্য মেলা প্রাঙ্গণ জুড়ে ৩২৪টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এবারের মেলায় ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার মোট ১১টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। ৩ জানুয়ারি শুরু হওয়া মেলা চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত