রাজধানীর নয়াপল্টন সমাজকল্যাণ মসজিদ গলির ‘শারমিন একাডেমি’তে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় স্কুলের ব্যবস্থাপক পবিত্র কুমার বড়–য়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ভোর রাতে রাজধানীর মিরপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পল্টন থানার পুলিশ। গতকাল দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার শিশু নির্যাতনের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। এরপর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে রিমান্ডে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আরেক আসামি তার স্ত্রী শারমিন জাহানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
হারুন অর রশিদ বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে সংশ্লিষ্ট একটি আদালতে হাজির করে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়। পরে আদালত তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি না করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামির ভাষ্যমতে স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ওই শিশুটি তার অন্য সহপাঠীদের গায়ে থুতু দিত। কয়েকদিন নিষেধ করার পরও শোনে না। ঘটনার দিন ক্লাসরুমে প্রধান শিক্ষিকা বিষয়টি আবারও নিষেধ করলে তার গায়ে থুতু দেয়। এরপর তাকে ক্লাসরুম থেকে বের করে অফিস কক্ষে নিয়ে আসেন তিনি। সেখানে তাকে স্বামী-স্ত্রী মিলে মারধর করেন। তবে ভিডিওতে দেখা যায়, অফিস কক্ষে একটি শিশুকে নিয়ে ঢুকলেন এক নারী। প্রথমে ওই নারী চড় দেন শিশুটিকে। এরপর আগে থেকেই অফিস কক্ষে থাকা এক পুরুষ। কখনো শিশুটির গলা চেপে, কখনো আবার মুখ চেপে ধরছিলেন। তার হাতে ছিল স্ট্যাপলার। তখন শিশুটি কাঁদছিল। এ সময় তাকে আটকে রাখছিলেন ওই নারী। একপর্যায়ে ওই নারীর শাড়িতে থুতু ফেলে শিশুটি।
