তারেক রহমানের সমাবেশস্থল ঘুরে দেখলেন সিএমপি কমিশনার

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ এএম

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। শনিবার দিবাগত রাতে তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা তদারকি করেন।

পরিদর্শনকালে সিএমপি কমিশনার মাঠের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোতায়েনকৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সিসিটিভি মনিটরিং, টহল কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (অর্থ ও প্রশাসন) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিএনপির দলীয় মহাসমাবেশে যোগ দিতে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে তিনি নগরীর পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লুতে যান।

দলীয় সূত্র জানায়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় তারেক রহমান তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেবেন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত মহাসমাবেশে যোগ দেবেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম চট্টগ্রাম সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীতে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ ও উৎসবমুখর পরিবেশ। নগরীর প্রধান সড়ক, মোড় ও অলিগলিতে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা।

মহাসমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিম পাশে প্রায় দুই হাজারের বেশি বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করে নির্মাণ করা হয়েছে ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থের একটি বিশাল মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি, এই মঞ্চে একসঙ্গে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বসতে পারবেন। এছাড়া মঞ্চের সামনে রাখা হচ্ছে পাঁচ হাজারের বেশি চেয়ার।

মাঠ ও আশপাশের এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে দুই শতাধিক মাইক ও ১০টি শক্তিশালী সাউন্ডবক্স। পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে কদমতলী ও টাইগারপাস পর্যন্ত এলাকায় ব্যবহৃত হবে প্রায় ২০০টি মাইক। শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠ সমতল করা হয়েছে এবং চারপাশে বসানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যারিকেড।

মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগরী রাখা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার আওতায়। প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। মঞ্চসহ পুরো এলাকাকে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাগ করা হয়েছে— রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন। মঞ্চকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে কেবল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা অবস্থান করতে পারবেন। মঞ্চের সামনের অংশ ইয়েলো জোন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিক ও নারীদের জন্য আলাদা ব্লক থাকবে। পুরো মাঠকে রাখা হয়েছে গ্রিন জোন হিসেবে।

উল্লেখ্য, এর আগে সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফরে এসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে নগরীর লালদিঘী ময়দানে এক জনসভায় বক্তব্য দিয়েছিলেন তারেক রহমান।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত