মুহূর্তে পাল্টে ফেলা হচ্ছে চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর। পরে সেগুলো কিনে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। যারা এই ফোন ব্যবহার করে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপকর্ম করছে। এতে করে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তনের সফটওয়্যার, ল্যাপটপ ও সরঞ্জামসহ এমনই এক চক্রের সদস্য মো. আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গতকাল রবিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গত শনিবার সন্ধ্যায়
গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করে একটি দোকানের কর্মচারী আসাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে দোকান থেকে আইএমইআই কেটে ফেলা পাঁচটি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া যেসব মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য জমা রাখা হয়েছিল, সেগুলো জব্দ করা হয়েছে।
ডিসি নাসের রিকাবদার বলেন, আমরা এমন দুটি সফটওয়্যারের সন্ধান পেয়েছি, যেগুলোর মাধ্যমে ডাটা কেবলের সাহায্যে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইএমইআই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। আসাদুজ্জামান ও তার পলাতক সহযোগী রাজন শেখ এই চক্রের হোতা। তাদের দলে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে যারা রাস্তায় চুরি, ছিনতাই ও লুণ্ঠনের মাধ্যমে মোবাইল ফোন সংগ্রহ করে তাদের কাছে হস্তান্তর করত। প্রাথমিক তদন্তে আরও অন্তত ৮-১০টি দোকানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। দোকানগুলোয় শিগগির ব্যাপক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে দিলে প্রকৃত মালিক আর সেই ফোন শনাক্ত করতে পারেন না। এতে অপরাধীরা নির্বিঘেœ এসব মোবাইল বিক্রি ও ব্যবহার করতে পারে। দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চক্রের বিরুদ্ধে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।
