কলকাতার আনন্দপুর এলাকায় ভয়াবহ গুদাম অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের দেহ মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় এখনো কারও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দমকল ও জরুরি পরিষেবা মন্ত্রী সুজিত বসু বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গুদামটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোর প্রায় ৩টার দিকে একটি জনপ্রিয় মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত গুদামে আগুন লাগে। সেখানে কোমল পানীয় ও শুকনো খাবারের প্যাকেট মজুত ছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে ১২টি দমকল ইঞ্জিন কাজ করে এবং প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এলেও রাত পর্যন্ত কয়েকটি জায়গায় আগুন জ্বলছিল এবং ঘন ধোঁয়া বের হতে থাকে।
১৬ থেকে ২০ জন কর্মী নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় একাধিক পরিবার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেনসিক ও ভিসেরা পরীক্ষার ওপর নির্ভর করতে হবে।
মন্ত্রী সুজিত বসু জানান, গুদামে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এছাড়া জলাশয় ভরাট করে গুদামটি নির্মাণ করা হয়েছে কি না—এমন অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে। ফরেনসিক তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে একটি এফআইআর দায়ের করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে এই ঘটনাটি বিবেচিত হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতারা গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানবিক এই বিপর্যয়কে ঘিরে রাজনীতি না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।