বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন বলেছেন, ঢাকা-৮ আসনের এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনি প্রচারণার বিধিসম্মত সময় শুরুর অনেক আগেই ভোট চাইতে শুরু করেছেন। তার কথাবার্তা ও আচরণে ঔদ্ধত্য এবং আলোচনায় থাকতে মুখরোচক বক্তব্য দেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট।
মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন মাহাদী আমীন।
তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি মানুষের সামনে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদ্গার, ভোটারের সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে ধারাবাহিক মিথ্যাচার—সবকিছুই যেন ভাইরাল হওয়ার কৌশল। বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে নিয়ে অবিরাম অশালীন আচরণ করা হলেও তিনি যথেষ্ট ধৈর্য ও সৌজন্যের পরিচয় দিয়েছেন এবং ইতিবাচকভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডিম নিক্ষেপের ঘটনার প্রসঙ্গে মাহাদী আমীন বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোনো ধরনের প্রমাণ, তদন্ত বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ছাড়াই এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেন—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমর্থনে ও মির্জা আব্বাসের নির্দেশে ছাত্রদল এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি আরও জানান, যে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই কলেজ কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন না এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাকে প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। আমন্ত্রণ ছাড়াই কেন তিনি বহিরাগত লোকজন নিয়ে সেখানে প্রবেশ করলেন, কারা ডিম প্রস্তুত রাখলো বা মারামারিতে জড়ালো এবং এই ঘটনার সঙ্গে তারেক রহমান, মির্জা আব্বাস বা ছাত্রদলের সম্পর্কই বা কী—সবকিছুই প্রশ্নবিদ্ধ ও রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেন মাহাদী আমীন।
তিনি বলেন, কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই প্রতিটি ঘটনায় তারেক রহমানের নাম জড়িয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। অতীতে ফ্যাসিবাদী আমলে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা নিয়মিত এ ধরনের আচরণ করত এবং শেষ পর্যন্ত তারা কীভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে জনরোষের মুখে পড়েছে, তা দেশবাসীর অজানা নয়।
শেষে মাহাদী আমীন বলেন, নির্বাচন যেন অযৌক্তিক নাটকীয়তার মঞ্চে পরিণত না হয়—সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সচেতন থাকতে হবে।
