মাত্র ২৪ ঘন্টায় ১ লাখ নতুন ব্যবহারকারী পেয়েছে ফিলিস্তিনি উদ্যোক্তা ঈসাম হিজাজীর তৈরি নতুন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপস্ক্রোল্ড’। সম্প্রতি টেক বিশ্বে এক নীরব বিস্ফোরণ ঘটেছে এই অ্যাপটি নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরে এটি ৫ নম্বর, অস্ট্রেলিয়ায় ৬ নম্বর এবং যুক্তরাজ্যে ৮ নম্বর অবস্থানে উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাপী চার্টে এই অ্যাপের দ্রুত উত্থান আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অ্যাপটির প্রতিষ্ঠাতা ঈসাম হিজাজীর আইবিএম, ওরাকল ও হিতাচির মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে গাজায় ভয়াবহ গণহত্যায় তিনি পরিবারের ৬০ জন সদস্য হারানোর তীব্র বেদনায় মনোনিবেশ করেন নতুন এ উদ্যোগে। তিনি লক্ষ্য করেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পক্ষপাতদুষ্ট ‘অ্যালগরিদম’ মানবাধিকার ও ফিলিস্তিন ইস্যুর কণ্ঠস্বর দমিয়ে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের বিলাসবহুল ক্যারিয়ার ত্যাগ করে ঈসাম গড়ে তোলেন ‘আপস্ক্রোল্ড’।
এই অ্যাপটিতে গত এক দিনে নিবন্ধন করেছে ১ লাখের বেশি নতুন ব্যবহারকারী। এছাড়া ৪.৯/৫ রেটিং নিয়ে এটি টিকটক ও ফেসবুকের বিকল্প হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতে, এই প্ল্যাটফর্মে ফিলিস্তিন বা মানবাধিকার নিয়ে বলার জন্য ছায়া নিষেধাজ্ঞার (শ্যাডো ব্যান) মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো পক্ষপাতদুষ্ট অ্যালগরিদম দ্বারা ব্যবহারকারীর ফিড নিয়ন্ত্রিত হয় না। এখানে ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি হয় না বলেও দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
প্রযুক্তি সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চ, দ্য ভার্জ ও ফাস্ট কোম্পানিও এখন ঈসাম হিজাজীর এই উদ্ভাবন নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। গাজায় নৃশংসতা থেকে উদ্ভূত এক দরদি প্রযুক্তি উদ্যোগ হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পাচ্ছে ‘আপস্ক্রোল্ড’। ঈসামের এই প্রচেষ্টা প্রমাণ করে, শোক যখন সংকল্পে রূপ নেয়, তখন কোনো বাধাই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধক হতে পারে না।
‘আপস্ক্রোল্ড (Upscrolled)’ অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে খুঁজলে পাওয়া যাচ্ছে।
