মসজিদের সভাপতি পদ না পেয়ে বিএনপিতে যোগ দিলেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা!

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাক জামশেদ আলম রানা প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপিতে যোগদান করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী শাসনামলে মসজিদের সভাপতি পদবঞ্চিত হয়ে দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের জেরে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বুধবার বিকাল থেকে সামাজিক মাধ্যমে তার দলবদলের খবর প্রকাশিত হলে মুহূর্তে সেটি ভাইরাল হয়।

জানা গেছে, জামশেদ আলম রানার বাড়ি উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সেনেরখিল গ্রামে। তাদের পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এলাকায় শিক্ষিত ভদ্র ও এলিট পরিবার হিসেবে তাদের যথেষ্ট প্রভাব ও সুনাম রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে বসবাস করছেন এবং জার্মান শাখা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদেও রয়েছেন।

দলবদলের বিষয়ে প্রতিবেশী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সালের মাঝামাঝিতে এলাকার নতুন বাজার জামে মসজিদের সভাপতি পদ পেতে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে  স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও একাধিক এলাকাবাসীর সঙ্গে তার মনোমালিন্য তৈরি হয়। পরে পদবঞ্চিত হয়ে সেই মনোমালিন্য ক্ষুব্ধতায় রুপ নিলে ধীরে ধীরে দলের কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফিরে বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। যে মসজিদের পদ নিয়ে নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় সেই মসজিদের উপদেষ্টা পদে মনোনীত হয়ে ফের তিনি জার্মানিতে ফিরে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে চেষ্টা ও তদবিরের পর সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপিতে যোগদান করতে সক্ষম হয়।  

এ বিষয়ে জামশেদ আলম রারার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি দলবদলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে ফোন করে দলবদলের সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের একতরফা নির্বাচন, বিরোধীদল-মতের দমনসহ রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বৈরাচারী আচরণের কারণে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগের সকল পদ-পদবি থেকে সরে আসি। দেশে ফিরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ভাইকে অবগত করে প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপিতে যোগদান করি।

মসজিদের সভাপতির পদবঞ্চিত হয়ে দলবদলের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি অস্বীকার করেন। তবে মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উপদেষ্টা পদ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন ভাবলু বলেন, ফেসবুকে দেখেছি তবে দলে যোগদানের বিষয়ে আমার জানা নেই।

জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার বলেন, তার যোগদানের বিষয়ে সোনাগাজী বিএনপি বলতে পারবে। তবে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আমি চিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত