মহাসচিবের সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের তহবিল জুলাইয়ের মধ্যেই শূন্য হয়ে যাবে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল পুরোপুরি শূন্য হয়ে যেতে পারে। সদস্য দেশগুলো তাদের বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না করায় বর্তমান সংকট এতটাই গভীর যে, জাতিসংঘ ‘আর্থিক ধসের’ ঝুঁকিতে রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ কথা জানান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চিঠিতে গুতেরেস লিখেছেন, ১৯৩টি সদস্য দেশের সবাইকে বাধ্যতামূলক চাঁদা পরিশোধ করতে হবে, তা না হলে আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। এ ছাড়া ধস ঠেকানো যাবে না। আমরা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তা ভাষায় বোঝানো কঠিন। আদায় না হওয়া অর্থ দিয়ে বাজেট বাস্তবায়ন করা যায় না আর যে অর্থ কখনো পাইনি, তা ফেরত দেওয়াও সম্ভব নয়।

মহাসচিব জানান, অতীতেও জাতিসংঘ আর্থিক সংকটে পড়েছে, তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কারণ, অনুমোদিত নিয়মিত বাজেটের বড় অংশের অর্থ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে বলা হলো, যখন জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত ও শান্তিরক্ষা বাজেটে অর্থ দেওয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং একাধিক সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে, যেগুলোকে তারা করদাতাদের অর্থের অপচয় বলে উল্লেখ করেছে।

গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত চাঁদা দেওয়া সদস্য দেশগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা এবং পুরো ব্যবস্থার অখ-তা সেটির ওপরই নির্ভর করে। তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে বকেয়া অর্থের পরিমাণ রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা মোট প্রাপ্যের ৭৭ শতাংশের সমান। তিনি বলেন, একটি বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে অব্যবহৃত অর্থ সদস্য দেশগুলোকে ফেরত দিতে হয়। হয় সব সদস্য রাষ্ট্র সময়মতো ও পুরো অর্থ পরিশোধ করবে, নয়তো আসন্ন আর্থিক ধস ঠেকাতে আর্থিক নিয়মকাঠামোয় মৌলিক সংস্কার আনতে হবে।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, সংস্থাটি তার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না এবং যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রচেষ্টায় যথেষ্ট সহায়তা দিচ্ছে না। জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়, যার মধ্যে জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাও রয়েছে। এর আগে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবিক কর্মসূচির জন্য ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলে সংস্থাটিকে ‘খাপ খাওয়াতে হবে, নইলে বিলুপ্ত হতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত