কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে স্পেসএক্স ও নিজস্ব এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই একীভূত করেছেন ইলন মাস্ক। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সৌরশক্তি-নির্ভর মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক বলেন, এআই প্রযুক্তির জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন, যা পৃথিবীতে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জনসাধারণের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে টেকসইভাবে চালানো কঠিন। তাঁর মতে, প্রায় সীমাহীন সৌরশক্তি কারণে মহাকাশেই এই সমস্যার একমাত্র বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
মাস্কের দাবি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই মহাকাশে এআই কম্পিউটিং পরিচালনার খরচ পৃথিবীর তুলনায় কম হতে পারে। তিনি বলেন, সূর্যের শক্তির সামান্য অংশ ব্যবহার করলেই তা বর্তমান বৈশ্বিক শক্তি ব্যবহারের তুলনায় বহু গুণ বেশি হবে। এই একীভূতকরণের ফলে মাস্কের মহাকাশ, এআই, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম–সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগ এক ছাতার নিচে এলো। স্পেসএক্স পরিচালনা করছে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি, আর এক্সএআই তৈরি করেছে গ্রক নামের এআই চ্যাটবট। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিকানাও তাদের হাতে। দুটি প্রতিষ্ঠানই নাসা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে যুক্ত।
স্পেসএক্সের স্টারশিল্ড ইউনিট ইতোমধ্যে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। মাস্ক আরও জানান, এআইয়ের জ্বালানি সংকট সমাধানে মহাকাশভিত্তিক সৌরশক্তির দিকে তাকাচ্ছেন অন্য প্রযুক্তি নেতারাও—এর মধ্যে জেফ বেজোস ও গুগলও রয়েছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাস্ক বলেন, স্পেসএক্স একসময় প্রায় ১০ লাখ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্টারশিপ রকেটকে উচ্চমাত্রার ভার বহন করে ঘন ঘন উৎক্ষেপণের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি, নতুন প্রজন্মের স্টারলিংক ভি৩ স্যাটেলাইট চালু হলে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলেও জানান তিনি।
