এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন

রাজনৈতিক বিবেচনায় হাজারো গ্রেপ্তার হচ্ছে না জামিন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলেছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রচলিত গুম, ভয়ভীতি ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি অনেকাংশে কমেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিবেচনায় হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে আটক করেছে। বিচারহীন অবস্থায় আটকে থাকা এসব ব্যক্তির জামিন নিয়মিত নাকচ করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও মানবাধিকার সংস্কারে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে সাধারণ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে। ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বাইরের গোষ্ঠীর উচ্ছৃঙ্খল সহিংসতা (মব ভায়োলেন্স)। এর মধ্যে নারী অধিকার ও এলজিবিটিকিউ-বিরোধী কট্টরপন্থিরা উল্লেখযোগ্য। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত গণপিটুনিতে কমপক্ষে ১২৪ জন নিহত হয়েছে।

এইচআরডব্লিউ বলেছে, আওয়ামী লীগ আমলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নির্বিচার আটকের ধারা অব্যাহত রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে শত শত ব্যক্তিকে মামলায় নাম দেওয়ার চর্চাও চলছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগের শত শত নেতাকর্মী হত্যা মামলায় কারাবন্দি। তাদের জামিন নিয়মিত নাকচ হচ্ছে। এ তালিকায় অভিনেতা, আইনজীবী, গায়ক ও রাজনৈতিক কর্মীরাও রয়েছেন। ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ কমপক্ষে ৮ হাজার ৬০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আরও অনেককে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

অবশ্য সরকার গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলে জানাচ্ছে এইচআরডব্লিউ।

অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। পরে ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অংশীজনদের মধ্যে ঐকমত্যের অভাবে সংস্কার বাস্তবায়ন কম হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণা’ ও ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশ করেছেন। নভেম্বরে ঘোষণা দেওয়া হয়, নির্বাচনের সময় সংবিধান সংস্কারে গণভোট হবে। প্রতিবেদনে নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ ও বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকছে : এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃত্ববাদী শাসনের দিকে ঝুঁকছে। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে প্রত্যাবর্তনের পর মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ত্বরান্বিত হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও এখন ২০ বছর আগের চেয়ে কম স্বাধীনতা ভোগ করে। প্রতিবেদনে ইমিগ্রেশন অভিযান, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্টের অভিযোগ তোলা হয়েছে। ২৫২ জন ভেনেজুয়েলান অভিবাসীকে এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানো ও নির্যাতনের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। বৈশ্বিক গণতন্ত্রের সূচক ১৯৮৫ সালের পর্যায়ে নেমেছে। নির্বাহী পরিচালক ফিলিপ বোলোপিওন বলেছেন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত