ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির কাছে শপথ নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তিন দিন পার হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আসিফ নজরুল সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা দেন।
প্রসঙ্গত, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট হবে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তার আগে ওই সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনায় এসেছে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কার কাছে শপথ নেবেন।
গতকাল আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন, তাদের শপথগ্রহণ করানোর কথা হচ্ছে স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। এখন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন কারাগারে আছেন। এ অবস্থায় তাদের দিয়ে শপথগ্রহণ করার কোনো সুযোগ নেই। তবে, তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে।’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের আইনে আছে, ওনারা (স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার) যদি শপথ গ্রহণ করাতে না পারেন, তাহলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত, অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাবেন, এক। আর তিন দিনের মধ্যে যদি এই শপথ না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারও শপথ গ্রহণ করাতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন এটা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ) সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখনি চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি সুযোগ আছে। একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ গ্রহণ করাতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। আর এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ গ্রহণ করাবেন। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।’
