ইউক্রেনে যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন ও শান্তিচুক্তি সম্পন্নের জন্য চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তি-বিষয়ক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তাদের দেশে দ্রুত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানায়। বৈঠকে আগামী মে মাসের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ওপর গণভোট আয়োজনের পাশাপাশি দেশটিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সময় বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা এমন একটি কাঠামো নিয়ে কথা বলেছেন যেখানে যেকোনো সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ইউক্রেনের জনগণের অনুমোদনের জন্য গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের পথ সুগম হবে।
দুটি সূত্র জানিয়েছে, নভেম্বরের কংগ্রেসনাল মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে এলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের মনোযোগ অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশি কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিচুক্তিতে সময় ও রাজনৈতিক উদ্যোগ কমে যেতে পারে। এ কারণেই ওয়াশিংটন দ্রুত অগ্রগতির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সূত্র এই প্রস্তাবিত সময়সূচিকে অবাস্তব বলে মনে করছেন। ইউক্রেনের নির্বাচন কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। একটি সূত্র বলেছে, কম সময়েও ভোট আয়োজন সম্ভব, কিন্তু তা সহজ নয়। বর্তমানে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি থাকায় নির্বাচন ও গণভোট আইনত নিষিদ্ধ। এ জন্য আইন সংশোধন প্রয়োজন হবে, পাশাপাশি ব্যয়ও হবে অনেক। ইউক্রেন চায় ভোটের পুরো সময় যুদ্ধবিরতি থাকুক, যাতে গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়। একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে নাÑ এটাই ইউক্রেনের অবস্থান। অন্যদিকে রাশিয়া পুরো দনবাস অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চাইলেও কিয়েভ তা অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়েছে। জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় দফা আলোচনার পর ৩১৪ জন যুদ্ধবন্দি মুক্তি পেয়েছেন।
