প্রথমবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ল ইতালি। কলকাতায় গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ৭৩ রানে হেরে গেছে বিশ্বকাপ অভিষিক্ত দলটি। সেই সঙ্গে বড় দুঃসংবাদ হয়ে এসেছে অধিনায়ক ওয়েইন ম্যাডসেনের চোট।
সোমবার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কাঁধে গুরুতর চোট পান ৪২ বছর বয়সী ম্যাডসেন। জর্জ মানসির একটি শট ঠেকাতে বাঁ দিকে ডাইভ দিতে গিয়ে পড়ে যান তিনি। বল আটকাতে না পারার পাশাপাশি কাঁধে তীব্র আঘাত পান ইতালি অধিনায়ক। কিছুক্ষণ মাঠেই শুয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। পরে ফিজিওর সহায়তায় মাঠ ছাড়েন তিনি। তখন তার বাঁ হাত স্লিংয়ের মতো করে ঝুলিয়ে রাখা ছিল।
ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ বলছিলেন, 'ম্যাডসেনের কাঁধের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ কারণে এই ম্যাচে আর তার ফেরা হয়নি। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত।'
সাধারণভাবে কাঁধের হাড় সরে গেলে সেরে উঠতে এক থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। গুরুতর হলে সময় লাগতে পারে কয়েক মাস। ফলে ম্যাডসেনের পুরো বিশ্বকাপই শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইতালির জন্য এটি বড় ধাক্কা। অধিনায়ক হওয়ার পাশাপাশি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানও তিনি। ম্যাডসেনের জন্য ঘটনাটি আরও বেশি হৃদয়বিদারক। দীর্ঘ প্রায় ২২ বছরের পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের পর অবশেষে পেয়েছিলেন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। ৪২ বছর বয়সে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে পা রাখার দিনটিকেই তিনি বলেছিলেন নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরুতেই দুর্ভাগ্য যেন তাকে থামিয়ে দিল।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা ম্যাডসেন একসময় ক্রিকেটের পাশাপাশি হকিতেও ছিলেন সমান পারদর্শী। বরং হকিতেই তিনি আগে জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। ২০০৬ কমনওয়েলথ গেমস ও একই বছরের হকি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলেছেন তিনি। পরে ক্রিকেটের প্রতি টানেই পুরোপুরি মন দেন।
২০০৮ সালে পেশাদার ক্রিকেট ক্যারিয়ার গড়তে পাড়ি জমান ইংল্যান্ডে। কাউন্টি ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করে ডার্বিশায়ার ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন ক্লাবটির নেতৃত্বও দিয়েছেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৫৩ ম্যাচে তার সংগ্রহ ১৭ হাজারের বেশি রান, সেঞ্চুরি ৪৩টি। গত মৌসুমেও ১৪ ম্যাচে চার সেঞ্চুরিতে করেন ১ হাজার ১৫৮ রান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে খেলেছেন ১১৭ ম্যাচ এবং টি–টোয়েন্টিতে ২১৯টি।
দাদির সূত্রে ইতালিয়ান পাসপোর্ট পাওয়ায় ২০২৩ সালে ইতালির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। অভিষেক ম্যাচেই করেন ৩০ বলে ৫২ রান। এবারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আবার জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। জানুয়ারিতে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে দুটি কার্যকর ইনিংস খেলেও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিনই ম্যাডসেন বলেছিলেন, তারা শুধু অংশ নিতে নয়, ম্যাচ জিততেই এসেছে—ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে ইতালিয়ান ক্রিকেটের জন্য আলাদা একটি পরিচয় গড়ে তুলতে চান।
কিন্তু অভিযানের শুরুতেই সেই স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেল।
ম্যাচে টস জিতে বোলিং নেয় ইতালি। স্কটল্যান্ড চার উইকেটে তোলে বড় সংগ্রহ ২০৭ রান। ওপেনার জর্জ মানজি করেন ৫৪ বলে ৮৪ রান। জবাবে ২০৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৬.৪ ওভারে ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় ইতালি। সহোদর বেন ও হ্যারি মানেন্তির ৭৩ রানের জুটি কিছুটা লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি ফুটবলের দেশটি।
'বাংলাদেশের প্রতি অবিচার মনে হলে পাকিস্তানের পুরো বিশ্বকাপই বয়কট করা উচিত ছিল'- সুনীল গাভাস্কার