স্ক্যাবিস একটি পরজীবী সংক্রমিত রোগ, যা ঝধৎপড়ঢ়ঃবং ঝপধনরবর নাম সরঃব দিয়ে সংক্রমিত রোগ। অপরদিকে দাদ একটি ফাংগাস সংক্রমিত রোগ। দুটি রোগই সংক্রামক বা ছোঁয়াচে, তবে স্ক্যাবিস একটু বেশি মাত্রায় ছোঁয়াচে। এবার আমরা আলোচনা করব এ দুটি রোগের চিকিৎসায় দীর্ঘ সময় লাগা বা চিকিৎসায় কাক্সিক্ষত সফলতা না পাওয়া বা চিকিৎসা ব্যর্থতার প্রধান কারণ এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় ও চিকিৎসা সফলতা পেতে আমাদের করণীয়।
কারণ
সঠিক নিয়মে সঠিক ওষুধ কোর্স মোতাবেক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত না খাওয়া। সামান্য একটু উন্নতি হলেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া। রোগ নির্ণয় না করে আন্দাজে চিকিৎসা দেওয়া। দাদে একজিমার জন্য ব্যবহৃত স্টেরয়েড যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা বা এলার্জি মনে করে স্টেরয়েড ও অন্যান্য ওষুধ দেওয়া। নিজে নিজে বা ফার্মেসির লোকদের পরামর্শ মোতাবেক অপ্রয়োজনীয় ও ভুল ওষুধ গ্রহণ করা।
আনার জন্য ও প্রতিরোধের জন্য আমাদের নিম্নলিখিত নিয়মাবলি মেনে চলতে হবে। যেসব কারণে চিকিৎসা ব্যর্থ হচ্ছে বা দীর্ঘ সময় লাগছে তা পর্যালোচনা করে তার প্রতিকার করা। রেজিস্টার্ড ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক সঠিক রোগ নির্ণয় করে সঠিক ওষুধ গ্রহণ করা। চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধের কোর্স সম্পন্ন করা এবং অন্যান্য নিয়মাবলি মেনে চলা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ঈড়হঃধপঃ ঞৎধপরহম রোগের উৎপত্তি শনাক্ত করে তাদের সবার চিকিৎসার আওতায় আনা। পরিবারের সব সদস্য, মেস বা বোর্ডিং এবং মাদ্রাসার একই রুমের সবার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। জব-রহভবপঃরড়হ বা পুনঃ সংক্রমণ রোধ করতে হবে। যাদের রোগ আছে তাদের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একই কাপড়চোপড়, বেডশিট, তোয়ালে ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না। যেসব ওষুধের ইতোমধ্যে জবংরংঃধহপব উবাবষড়ঢ় করেছে বলে জানা আছে, সেগুলো দিয়ে চিকিৎসা না করা। নিজে নিজে বা ফার্মেসির লোকদের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা না করা।
ক্ষেতে খামারে : যথেচ্ছভাবে কীটনাশক ব্যবহার না করা। ওষুধের প্রতি জবংরংঃধহপব কেন হচ্ছে সে বিষয়ে জাতীয়ভাবে গবেষণা করা। ওষুধের মান নিয়ন্ত্রণ করা ও দাম কমানো।
স্বাস্থ্যনীতিতে অন্যান্য সংক্রামক রোগে প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ঠিক তেমন গুরুত্বের সঙ্গে স্ক্যাবিস ও দাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা রেজিস্টার্ড ডাক্তার দেখিয়ে সঠিক রোগ নির্ণয়পূর্বক সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে। নিজে নিজে বা ফার্মেসির লোকদের কথায় ওষুধ খাবেন না বা ব্যবহার করবেন না।
স্টেরয়েড বা স্টেরয়ড মিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করবেন না। অহেতুক বেশি ওষুধ খাবেন না। আক্রান্ত স্থানে শুকনা রাখবেন। সাবান, সেভলন, ডেটল, স্যানিটাইজার ইত্যাদি ব্যবহার করবেন না। আক্রান্ত স্থানে গরম পানি ঢালবেন না। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। আপনার ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখবেন। পরিষ্কার কাপড়চোপড় পরিধান করুন। নিজের ব্যবহার্য কাপড়চোপড়, বেডশিট, তোয়ালে ইত্যাদি অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না। ভেড়ের মধ্যে বা অনেক লোকের মাঝে থাকলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন। যারা ডায়াবেটিস, ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, ক্যানসার রোগে ভোগছেন, বা ক্যামো থেরাপি ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাচ্ছেন তাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা নিতে হবে। যেসব ওষুধ-জীবাণুর প্রতি রেজিস্ট্যান্স আছে সেসব ওষুধে ব্যবহার না করা। সামান্য রোগে বেশি ওষুধ বা শক্তিশালী ওষুধ ব্যবহার না করা। দাদের চিকিৎসায় খাবার ওষুধগুলোর পাশর্^ প্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
