ভোটকে উৎসবে পরিণত করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৮ পিএম

অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে উৎসবমুখর হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জীবনের প্রথম ভোট হোক নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়ের ভোট—দুর্নীতিমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের ভোট।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নিজস্ব ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব আহ্বান জানান।

যুব সমাজকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার যুবক বন্ধুরা, তোমরা সবাই কেমন আছো? জীবনের প্রথম ভোট তোমরা কাল দিবে—পছন্দের প্রার্থীকে, পছন্দের প্রতীকে। একটি নতুন দেশ গড়ার প্রত্যয়ে, পরিবর্তনের আশায়, সুশাসনের আশায়।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোট শুধু দেওয়ার বিষয় নয়, এটি উদযাপনের বিষয়। তরুণদের উদ্দেশে তার আহ্বান, ‘একাই যাবে না। বন্ধু-বান্ধব, ভাই, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবে। সবাইকে উৎসাহিত করবে।’

তার ভাষায়, ইতোমধ্যেই মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। রাজধানী ঢাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেছে—মানুষ ছুটছে গ্রামে, নিজের ভোটকেন্দ্রে, আপনজনের কাছে। এটি পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করেন তিনি।

‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামীকাল সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। এ নির্বাচনে দুটি ভোট থাকবে। যারা সংস্কার ও পরিবর্তন চান তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন, আর যারা চান না তারা ‘না’ ভোট দেবেন—সিদ্ধান্ত সবার নিজস্ব। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা চাই সবাই ভোটটা সত্যিকারের উদযাপন করুক।’

তিনি বলেন, ‘যুবকরাই তো বাংলাদেশ। তোমাদের জন্যই বাংলাদেশ। জাতি তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের পছন্দমতো নেতা ও দল নির্বাচন করতে হবে—যারা ক্ষমতায় এসে মানুষকে স্বস্তি দেবে এবং দেশকে আর কখনও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে দেবে না।

নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার স্বীকৃতি এবং নারী সমাজের প্রতি বিশেষ আবেদন জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, যুগে যুগে নারীরা ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে চব্বিশের গণ-আন্দোলনে তাদের অংশগ্রহণ ছিল স্মরণীয়। ‘রাস্তায় নেমে এসেছেন, শক্তি যুগিয়েছেন, পানি পান করিয়েছেন, সমানতালে লড়াই করেছেন’—এভাবে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

তার মতে, নারী-পুরুষ মিলেই গড়ে উঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ—একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিক গর্ব করে বলবে, ‘আমিই তো বাংলাদেশ।’

মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের প্রত্যাশা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতি এমন একটি বাংলাদেশের অপেক্ষায় আছে যা হবে মানবিক, যেখানে সাম্য থাকবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। বিচারের জন্য মানুষকে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না—রাষ্ট্রই ন্যায় নিশ্চিত করবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, ‘তোমরা প্রস্তুত তো? মায়েরা, বোনেরা, সবাই প্রস্তুত?’ এবং বলেন, আগামীকালই সেই ভিত্তি রচনার দিন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেউ যদি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করতে চায়, তবে বুঝতে হবে তারা জাতির ক্ষতি করতে চায়। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ করেন, কোনো গুজবে কান না দিতে।

তার বিশ্বাস, অতীতের মতো এবারও জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

প্রশাসন ও নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দেশটি আমাদের সবার। আসুন সত্য, ন্যায় ও ভালোর পথে একসঙ্গে হাত মিলাই। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবো না।’

তিনি জানান, সত্যের বিজয় হলে জাতি জিতবে, আর জাতি জিতলে কেউ হারবে না। একটি শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বে প্রশংসিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন। শেষে তিনি দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত