নতুন সংসদ সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাও দায়িত্ব নিয়েছে। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে পদত্যাগ, মেয়াদোত্তীর্ণ বা অভিশংসন ছাড়া নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই বলে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
অক্টোবরে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হলেও তিনি সরে দাঁড়াননি। তবে গত ডিসেম্বরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের পর সরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। নতুন সংসদ ও সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে আসবে। কে এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তার এখনও কোন স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়নি নতুন শপথ নেওয়া সরকারের কাছ থেকে।
সংবিধান বিশ্লেষক ও আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে জানান, সংবিধানেই বলা আছে রাষ্ট্রপতির পদ কীভাবে শূন্য হবে। সুতরাং পদ শূন্য হওয়ার পরই এই নিয়ে কার্যক্রম শুরু করবে নতুন সংসদ। এছাড়াও তিনি জানান যে শারীরিক অসুস্থতা, মানসিক কারণ কিংবা গুরুতর কোনও অসদাচরণজনিত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং কেউ সর্বোচ্চ দুইবার দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পদ শূন্য হলে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। প্রার্থী হতে হলে ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করে। একক প্রার্থী হলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। মেয়াদ শেষের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়।
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত। তবে ‘জুলাই সনদ’-এর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমে রাষ্ট্রপতির নিয়োগসংক্রান্ত ক্ষমতা বাড়তে পারে। এজন্য সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন, যা এখনো সময়সাপেক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে পদত্যাগের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোতে পারে।
