বাংলাদেশে একটা ‘ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ’ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, ‘গণমাধ্যমের লক্ষ্য তথ্যকে মানুষের কাছে নির্ভেজালভাবে উপস্থাপন করা। আমরা নীতিমালার আলোকেই সব সমস্যার সমাধান করব।’
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেই একজন নির্যাতিত রাজনৈতিক কর্মী। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আপনাদের সামনে মন্ত্রী হিসেবে কথা বলছি। আমি নিজে জানি, ভয়ভীতির মধ্যে যারা বাস করে, তাদের কী ধরনের মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিশেষত, গণমাধ্যমের মতো পেশায় যারা কাজ করেন, উল্টো তাদেরই যদি সারাক্ষণ নজরদারিতে থাকতে হয়, সেটা তো খুবই সমস্যা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলেছেন। বাংলাদেশে আমরা ভয়মুক্ত গণমাধ্যমের পরিবেশ তৈরি করব।’
জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, আমাদের এই দীর্ঘযাত্রার পেছনে রাজপথের নেতাকর্মীদের চাইতে আপনাদের (সাংবাদিকদের) অবদান কোনো অংশেই কম নয়। দীর্ঘ আন্দোলনের এই পথে গণমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোও ছিল একেকটি আন্দোলনের যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানে আপনাদের সবার সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের অন্য সাথীদের আমরা যেভাবে মূল্যায়ন ও সম্মানের চেষ্টা করছি, গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট সহকর্মীদেরও সেভাবেই বিবেচনা করব। আজকে আমাদের নতুন সরকারের ক্যাবিনেট মিটিং রয়েছে। এরপরই আপনাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কাজ করতে পারব। আজ শুধু সৌজন্য বিনিময় করছি। আজ আর এর বাইরে না যাওয়াই বোধহয় ভালো হয়।’
নির্বাচনের আগে-পরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও গুজব দেখা গেছে। এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষমতা পৃথিবীব্যাপী গণমাধ্যমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদের মতো আমাদেরও এ বিষয়ে ভেবেচিন্তে পথ চলতে হচ্ছে। ‘তবে গণমাধ্যমের লক্ষ্য যেটা, তথ্যকে মানুষের কাছে নির্ভেজালভাবে উপস্থাপন করাÑ আমরা সেই নীতিমালার আলোকেই সব সমস্যার সমাধান করব’ বলে জানান তিনি।
এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাব পরিদর্শন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সাংবাদিকদের সমস্যা সমাধান ছাড়া গণমাধ্যমের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।