চলে গেলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাবেক মহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক বেলা সাড়ে ১টার দিকে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় মৃত্যু হয় তার। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজশাহীর এক সংস্কৃতিমনা পরিবারে জন্ম নেওয়া রেজাউল করিমের কর্মজীবনজুড়ে জড়িয়ে ছিল দেশের টেলিভিশন, সংগীত ও সংস্কৃতি অঙ্গন। দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তার জীবনের অন্যতম গৌরবময় অধ্যায় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। সেখানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী মানুষের মনোবল জোগাতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
তার মতো শব্দসৈনিকদের কণ্ঠ মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সাহস জাগিয়ে তুলেছিল। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৬ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ১০৮ জন শব্দসৈনিককে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ওই গেজেটে রাজশাহী জেলার তালিকায় ‘মো. রেজাউল করিম (রবু)’ নামে তার নাম রয়েছে।
বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচার ও অনুষ্ঠান নির্মাণের ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন রেজাউল করিম। বাংলাদেশ টেলিভিশনে দীর্ঘ কর্মজীবনে অনুষ্ঠান প্রযোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিটিভির মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন।