জাকসুর ১৮ লাখ, কাজের হিসাব ৩ কোটি ৫২ লাখ

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা গ্রহণ করেও উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ করেছে জাকসু। এক বছরে বাস্তবায়ন করা হয়েছে ৩৩৮টি কর্মসূচি।

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) জানিয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও শিক্ষার্থীকল্যাণমূলক খাতে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে। এ সময়ে সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক আয়োজনসহ মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জাকসুর সদ্য সাবেক এজিএস ফেরদৌস আল হাসান।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর জাকসুর কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আউটসোর্সিং ও স্পনসরশিপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও বাজেট সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত সমাধান সম্ভব হয়নি। পরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের সহযোগিতা এবং স্পনসরশিপের মাধ্যমে এসব কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

জাকসুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে বাস্তবায়িত ৩৩৮টি কর্মসূচির মধ্যে ছিল সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, উন্নয়নমূলক কাজ, আবাসিক হলে সরঞ্জাম সরবরাহ, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২১টি আবাসিক হলে কম্পিউটার, ডেস্কটপ সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। প্রতিটি আবাসিক হলে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং প্রতিটি হলে একটি করে বুস্টার স্থাপনে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

এ ছাড়া ১৬টি আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’ ওয়েবসাইটে ৪৫ হাজার টাকা, ‘জাবি’ ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার টাকা এবং রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু ও বাসে ট্র্যাকার মেশিন স্থাপনেও প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তবে স্পনসরশিপের কারণে এ খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে বলে জানানো হয়।

ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সহায়তার জন্য ‘ক্যারিয়ার পাথ অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজন করা হয়। এতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং আয়োজনটির ব্যয় ছিল প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে জাকসুর পক্ষ থেকে এ কর্মসূচিতে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয়নি।

এ ছাড়া ‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো ২০২৬’-এ প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির ব্যয় ছিল প্রায় ৪ লাখ টাকা, বিপরীতে জাকসু থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয় ২৫ হাজার টাকা।

শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েক ধাপে বিনামূল্যে আইইএলটিএস কোর্সের আয়োজন করা হয়। প্রথম ধাপে ৩০০-এর বেশি এবং দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী বিনামূল্যে কোর্সের সুযোগ পান। দুই কার্যক্রমে যথাক্রমে প্রায় ৩ লাখ ও ৪ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলেও জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি বলে জানানো হয়।

‘বেসিক কম্পিউটার কোর্সে’ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী এনরোল করেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ‘অ্যাডভান্স কম্পিউটার স্কিল ফর একাডেমিক ইউজ’ কোর্সে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা।

‘ফ্লুয়েন্ট ফিউচার ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স’-এর আওতায় ইংরেজি, জাপানি ও সফট স্কিল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১২ লাখ টাকা। ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স উইথ রিসার্চ প্রজেক্ট’-এ বিজ্ঞান, আইবিএ, ব্যবসা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখার প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।

জাকসুর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় পরিসরের একটি জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা হলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের কারণে জাকসুর ব্যয় ছিল প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় ‘মেন্টাল হেলথ ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্প’ আয়োজন করা হয়। এতে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন এবং প্রায় ২০ জন চিকিৎসক অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। স্পনসর প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক কাউন্সেলিং সেশনের সুবিধাও দেয়।

এ ছাড়া জাকসুর নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরিতে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, যা সম্পূর্ণ স্পনসরনির্ভর বলে জানানো হয়। ‘জাগরণ’ ও জাকসুর ম্যাগাজিন প্রকাশে পৃথকভাবে প্রায় ২ লাখ টাকা করে ব্যয় হয়েছে। জিমনেশিয়াম আধুনিকায়ন প্রকল্পেও ৫ লাখ টাকার স্পনসর সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিনামূল্যে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। এ আয়োজনের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে জাকসু।

নারী শিক্ষার্থীদের জন্য সাত দিনব্যাপী সাইকেল ও স্কুটি প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৫৫০ জন নারী শিক্ষার্থী অংশ নেন। প্রকল্পটি স্পনসরের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলেও সংবাদ সম্মেলনে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবদানের পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের সরাসরি উপকারে আসে এমন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বরাদ্দের পাশাপাশি স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার মাধ্যমে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত