ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শনিবারের (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই এই হামলা শুরু হতে পারে। তবে অভিযানের সময়সীমা এই সপ্তাহান্তের পরেও গড়াতে পারে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
স্পর্শকাতর জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। হোয়াইট হাউস বর্তমানে পরিস্থিতির ভয়াবহতা, যুদ্ধের ঝুঁকি এবং সামরিক পদক্ষেপ না নিলে তার রাজনৈতিক ও কৌশলগত পরিণতির বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সম্ভাব্য হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বা ইরানের পাল্টা আক্রমণ থেকে বাঁচতে আগামী ৩ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে পেন্টাগন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, বড় কোনো অভিযানের আগে সম্পদের সুরক্ষা ও জনবল স্থানান্তর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া; এটি কেবল হামলার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এ বিষয়ে পেন্টাগনের মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইরানে হামলার পক্ষে অনেক যুক্তি ও কারণ রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনীতিকে প্রথম পছন্দ হিসেবে দেখেন।’
তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী সফল অভিযান চালিয়েছিল। লেভিট সতর্ক করে বলেন, ‘ইরানের উচিত হবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসা।’
বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় একটি রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ বর্তমানে পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জেরাল্ড ফোর্ড রণতরীটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে—এমন একটি এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ছবি পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘রণতরী বিপজ্জনক যুদ্ধাস্ত্র হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা এই রণতরীকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে পারে।’
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গলবার ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। কিছু অগ্রগতি হলেও লেভিট জানিয়েছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে অবস্থান করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে মার-এ-লাগোতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলাকে তিনি সমর্থন করবেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ইরান বৃহস্পতিবার রকেট উৎক্ষেপণের কারণ দেখিয়ে বিমানচালকদের দক্ষিণ ইরান এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। উল্লেখ্য, গত জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যাতে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ব্যাপক ক্ষতি হয়। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মতে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
বিশ্বের সব মুসলমানকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা মির্জা ফখরুলের
চড়া দামে ফিকে হচ্ছে রোজার আনন্দ
রমজানে ব্যাংকে লেনদেনের সময় কতক্ষণ?