প্রতিষ্ঠাতা বিএনপি নেতা তাই ২ দশকেও হয়নি জাতীয়করণ

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৪ এএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও (বটতল) এলাকার শামীম আহমেদ চৌধুরী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুই দশকেও জাতীয়করণ হয়নি। চরম প্রতিকূলতার মধ্যে ২০ বছর ধরে টিকে থাকলেও বর্তমানে স্কুলটির অবস্থা অত্যন্ত বেহাল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টির অবকাঠামো এখন ধ্বংসের মুখে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাথরুম থাকলেও সেখানে নেই কোনো পানির ব্যবস্থা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় গ্রীষ্মের প্রচ- গরমে ফ্যান ছাড়াই ক্লাস করতে হয় কোমলমতি শিশুদের। শ্রেণিকক্ষের দরজা ও জানালাগুলো ভাঙা থাকায় নিরাপত্তা ও পরিবেশ, উভয়ই এখন ঝুঁকির মুখে। এমন এক ‘যুদ্ধকালীন’ পরিস্থিতির মধ্যদিয়েই চলছে এখানকার শিক্ষা কার্যক্রম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও (বটতল) এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য (বর্তমানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য) মুজিবুর রহমান চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বারবার জাতীয়করণ প্রক্রিয়া থেকে প্রতিষ্ঠানটি বঞ্চিত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে এলাকার নিরক্ষরতা দূর করতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার প্রয়াত ছোট ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামীম আহমেদ চৌধুরীর নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। জমি দান থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এ এলাকার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিন শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থীর রয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যখন সর্বশেষ সারা দেশে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে, তখন এই বিদ্যালয়টির সব শর্তপূরণ থাকা সত্ত্বেও তালিকায় নাম আসেনি বলে দাবি করছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় বিগত সরকারের আমলে অনেকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হয়নি। শিক্ষা কর্মকর্তারা এসে পরিদর্শন করে সব ঠিকঠাক পেলেও অদৃশ্য কারণে ফাইল আর এগোয়নি। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ আর শিক্ষকদের মানবেতর জীবন দেখে এখন খুব কষ্ট হয়। আমি সাধ্যমতো তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রোজীনা বেগম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সবকিছু দিলেও চারবার বিদ্যালয়ের মালামাল চুরি হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অন্যদিকে চুরি এভাবে প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিদ্যালয়টি ২০ বছর ধরে টিকে আছে। আমরা রাজনীতি বুঝি না, আমরা বুঝি শিক্ষা। অথচ রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে আমাদের বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। এখন আমাদের দাবি, নতুন বাংলাদেশে যেন এই বৈষম্যের অবসান ঘটে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, ‘জাতীয়করণের বিষয়টি নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। নতুন করে জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু হলে এবং বিদ্যালয়টি শর্তপূরণ করলে অবশ্যই তা বিবেচনা করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত