ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির খবরের মধ্যেই তেহরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসাটাই হবে ইরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ। ওয়াশিংটন যখন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ ঘটাচ্ছে, ঠিক তখনই এই হুঁশিয়ারি এলো। গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি কূটনৈতিক সমাধান আশা করছেন। তবে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, ইরানের ওপর হামলার পক্ষে ‘অনেক যুক্তিসংগত কারণ’ রয়েছে।
এদিকে, ইরানে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা গুরুতর পরিণতি বয়ে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া। গত বুধবার সৌদি আরবের আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়ার সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ,ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি অনুসরণ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধৈর্য ধরে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। হরমুজ প্রণালিতে মহড়ার পাশাপাশি গতকাল বৃহস্পতিবার ওমান সাগরে রাশিয়াকে নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে হামলার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্টকে নিশ্চিত করেছেন, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে আঘাত হানতে সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও লেভিট জানিয়েছেন, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষ এখনো ‘অনেক দূরে’ অবস্থান করছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান আরও বিস্তারিত প্রস্তাব নিয়ে আসবে বলে আশা করছে ওয়াশিংটন।
বিবিসি নিশ্চিত করেছে, গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও কয়েক ডজন ফাইটার জেটসহ মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন বর্তমানে ইরানের খুব কাছে অবস্থান করছে। এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই রণ প্রস্তুতির জবাবে ইরানও শক্তি প্রদর্শন করছে। ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক তেল রুট হরমুজ প্রণালিতে মহড়া শুরু করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। পাশাপাশি ওমান সাগরে রাশিয়াকে নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়াও শুরু করেছে ইরান। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে এ যৌথ মহড়ার লক্ষ্য হলো সমুদ্রে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা। তবে কত দিন ধরে এ মহড়া চলবে, তা নিশ্চিত করা হয়নি। এদিকে, আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানে নতুন কোনো হামলার বিরুদ্ধে সতর্কতা জানিয়েছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।
তিনি আরও বলেন, ‘সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, এর পরিণতি ভালো না। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় ইতিমধ্যেই হামলা চালানো হয়েছে। সেখান থেকে আমরা অনুমান করতে পারি, এ ঘটনায় পারমাণবিক দুর্ঘটনার প্রকৃত ঝুঁকি ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমি সতর্কভাবে ওই অঞ্চলের আবর দেশগুলোর, উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষক করছিলাম। তাদের কেউ চায় না উত্তেজনা বারুক। প্রত্যেকে বুঝতে পারছে এটা আগুন নিয়ে খেলা। ল্যাভরভের মতে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে সাম্প্রতিক যে ইতিবাচক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, সেগুলো অকার্যকর হয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবসহ নিকটবর্তী দেশগুলোর সম্পর্কের উন্নতিও অন্তর্ভুক্ত।’
