তারেক রহমানকে ট্রাম্পের চিঠি, প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের আশা

সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৪ এএম

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে পৃথক চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তারা সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন।

তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে দেওয়া চিঠিটি ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র সময় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সই করেন। চিঠিতে আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিনন্দন জানিয়ে তার মেয়াদের সফলতা কামনা করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং স্বার্থের অংশীদারত্বের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলা যেতে পারে, যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম দেশগুলো সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেয়াদের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তারেক রহমান দুই দেশের বাণিজ্য-সম্পর্কের অসাধারণ গতি বজায় রাখতে তাকে (ট্রাম্প) সাহায্য করবেন, যা দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে।

ট্রাম্প এটাও আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেবেন, যা বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর জন্য আমেরিকায় তৈরি উচ্চমানের (সামরিক) সরঞ্জাম পেতে সহায়ক হবে।

প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আগের চেয়ে শক্তিশালী করতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ওপর নিজের পূর্ণ আস্থা থাকার কথা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, একসঙ্গে দুই দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও সুরক্ষিত করার সুযোগ রয়েছে। তিনি তারেক রহমানের আগামী দিনগুলোর জন্য শুভকামনা জানান।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন : এদিকে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার পাঠানো এক চিঠিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের নির্বাচনে আপনার বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাতে এই পত্র লিখছি। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আপনার নেতৃত্বে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হবে এবং আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের ভিত্তিতে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’

চিঠিতে বলা হয়, আমাদের অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা করছি। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী হিসেবে যুক্তরাজ্য আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে আগ্রহী। অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রতিরোধ এবং আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করতে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে উদারতা প্রদর্শন করছে, সেক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

এতে আরও বলা হয়, আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্বের এই নতুন অধ্যায়ের দিকে আমি আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত