সিলেটের শস্যভা-ার হিসেবে পরিচিত মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। চারদিকে দিগন্তজোড়া লেবু বাগান, যেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা লেবু সরবরাহ করা হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অথচ ‘প্রদীপের নিচে অন্ধকার’-এর মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে স্থানীয় বাজারগুলোতে। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে লেবুর এই স্বগরাজ্যেই এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। আকস্মিকভাবে লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে।
মাত্র এক মাস আগেও যেখানে প্রতি হালি লেবু বিক্রি হতো ২৫ থেকে ৪০ টাকায়, সেখানে বর্তমানে খুচরা বাজারে সাইজভেদে ৮০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকা হচ্ছে। বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা পর্যন্ত, মাঝারি ১২০-১৪০ টাকা এবং ছোট ৮০-১০০ টাকা দরে।
গত বৃহস্পতিবার দুই উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও আড়ত ঘুরে দেখা যায়, বাজারে লেবুর সরবরাহ তুলনামূলক কম। অনেক বিক্রেতা সীমিত পরিমাণ লেবু নিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকলেও উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আড়ত থেকে সাইজভেদে প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। শ্রমিক মজুরি, পরিবহন ও বাজার খরচ যোগ করে ন্যূনতম লাভে বিক্রি করতে গিয়ে হালিপ্রতি দাম ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় তুলতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের লেবু বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশ। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ আরেক বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫-৬ শত পিস লেবু বিক্রি হলেও এখন বিক্রি নেমে এসেছে ১০০-১৫০ পিসে। দাম শুনে অনেক ক্রেতাই ফিরে যাচ্ছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানে ইফতারে লেবুর সরবতের বিকল্প নেই। কিন্তু আকাশচুম্বী দামের কারণে অনেকে লেবু কিনতে পারছেন না। ক্রেতা মোফাজ্জল আহমদ, রাজু মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা লেবুর জন্য বিখ্যাত অথচ এখানকার মানুষই চাহিদামতো লেবু কিনতে পারছেন না।’
লেবু ব্যবসায়ী বারিক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা
মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০-৩০০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ১০-১৫টির বেশি ফলন নেই।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘পুরো উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষাবাদ হয়। চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বর্তমানে লেবুর ফলন অনেকটা কম।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, পুলিশ, উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং পুলিশের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং করা হয়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সতর্ক করে হয়েছে।’