সময় ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে অতিদ্রুত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করে কীভাবে দ্রুত চালু করা যায় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল রবিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অতিদ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।’
থার্ড টার্মিনাল চালুর বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান থার্ড টার্মিনাল চালু করতে। ৯৯ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পরও কেন চালু করা যাচ্ছে না সে বিষয় পর্যালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী রিপোর্ট করতে বলেছেন। আমরা সার্বিক খোঁজখবর নিয়ে সমস্যা কোথায় তা চিহ্নিত করে প্রধানমন্ত্রীকে জানাব। এরপর তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানিয়েছে, ইতিপূর্বে জাপান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এবার শেষ দফা আলোচনা হবে জাপানের সঙ্গে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে এ আলোচনা হবে।
এর আগে দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে আন্তরিক এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে টার্মিনালটি চালু করা যায়। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।’
থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হতে পারেসাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। এখন আলোচনা হবে, প্রয়োজন হলে তদন্ত হবে। কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, সে বিষয়েই কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় বলা যাচ্ছে না।
মন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। কিছু অংশে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে, পাশাপাশি নেটওয়ার্ক-সংক্রান্ত কিছু সমস্যাও ছিল। প্রকল্পের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
কেন এত অগ্রগতি সত্ত্বেও টার্মিনাল চালু হয়নিএমন প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, ‘বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।
১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন : দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী ১২ মার্চ দুপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন হবে। অধিবেশনে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন আহ্বানের প্রক্রিয়াটি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। সংসদ সচিবালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হবে। এটি প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাবে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। রাষ্ট্রপতি সেই সারসংক্ষেপ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। প্রাথমিক সিদ্ধান্তে ১২ মার্চ অধিবেশনের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
অধিবেশনের সম্ভাব্য কার্যসূচি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জনস্বার্থে জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশগুলো এই অধিবেশনে আইন হিসেবে অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হবে; সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাষণ দেবেন। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে; সাম্প্রতিক সময়ে মারা যাওয়া বিশিষ্ট ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদদের স্মরণে সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হবে।’
সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন নিয়ে সভা : বিকেল তিনটায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সভাকক্ষে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ে সভা হয়েছে। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল ৯টা ৫মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অফিস করতে আসেন। এ সময় মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকতে নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর : নির্দিষ্ট সময়ে সবাইকে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে অফিস করেন তিনি। সেখানে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আজ (গতকাল) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। এত সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকেই অভিভূত হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে অফিসে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সবাই অফিসে উপস্থিত হন।’
জাপানে লোক পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ প্রধানমন্ত্রীর : জাপানে কর্মী পাঠাতে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ’ বিষয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরই ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গতকাল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যাহ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানে বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানোর বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে জাপানে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ তরুণ বয়সীদের প্রয়োজন হবে। এখন আমাদের বাংলাদেশে প্রায় ২৩ লাখ অতিরিক্ত যুব শ্রমশক্তি আছে। আমরা কীভাবে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করে জাপানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাঠানো যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। জাপানে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সব কর্মকর্তাকে দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক আহ্বান জানান।
