প্রাণ ফিরে পেল দাদনার খাল

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৯ এএম

দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে ফেনীর দাদনার খালে পানি প্রবাহিত হতে পারেনি। এ সুযোগে একটি মহল দখল করে নিয়েছিল খালের এক তৃতীয়াংশ। চলতি বছর উপজেলা ও পৌর প্রশাসন খাল দখলমুক্ত করে। তবে ময়লার ভাগাড় থেকে মুক্তি মিলেনি। নির্বাচন-পূর্ববর্তী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়াল খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন।

জানা গেছে, খাল পরিষ্কারের জন্য ফুটস্টেপ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করেন তাজওয়ার। তার অনুরোধে ফুটস্টেপ খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে উপজেলা প্রশাসন ওইসময়ে খাল পরিষ্কারের কাজ স্থগিত করে। ওই সময়ে তাজওয়ার আউয়াল কথা দিয়েছিলেন নির্বাচনে জয়-পরাজয় যেটাই হোক না কেন, নির্বাচনের পরে এ খাল পরিষ্কার করা হবে। এ খাল দিয়ে স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা প্রবাহের ব্যবস্থা করে  দেবেন। যেই কথা, সেই কাজ। নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই তিনি খাল পরিষ্কারের কাজ শুরুর জন্য ফুটস্টেপকে অনুরোধ করেন। ফুটস্টেপ টিম ৫ দিনের কঠোর পরিশ্রম করে মৃতপ্রায় দাদনার খালে প্রাণ ফিরিয়ে দিয়েছে।

দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী ও পৌর এলাকার বাসিন্দা আজমুল হক সুমন এ খাল পরিষ্কার করায় তাজওয়ার আউয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এ খাল ভরাট থাকার কারণে বর্ষাকালে দাগনভূঞা পৌর এলাকায় পানি জমাট বেঁধে থাকত। বাজারের পানি নিষ্কাশনেও দীর্ঘ সময় লাগত। আশা করি, এ খাল যেভাবে তার প্রাণ ফিরে পেয়েছে, তা আর কখনো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হবে না।’

দাগনভূঞা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন লিটন বলেন, ‘বাজার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘবছরের প্রাণের দাবি ছিল দাদনার খাল দখল ও দূষণমুক্ত করা। উপজেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করলেও খালটি মৃত অবস্থায় ছিল। আর এ মৃত খালকে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ায় আমাদের ফেনী-৩ আসনের এমপি ও মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ছেলে তাজওয়ার এম আউয়ালকে কৃতজ্ঞতা জানাই। তার কাছে আমাদের দাবি থাকবে, ভবিষ্যতে কোনো প্রভাবশালীমহল যেন এ খাল দখল করতে না পারে এবং খাল পরিষ্কারের কাজ যেন চলমান থাকে।’

তাজওয়ার এম আউয়াল বলেন, ‘দাগনভূঞা বাজারে যাওয়ার পর ময়লাভর্তি খালটি নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে ফুটস্টেপ কোম্পানিকে ফোনে অনুরোধ করি। তারা খাল পরিষ্কারের কাজ শুরু করে। কিন্তু নির্বাচনের আগে হওয়ায় সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও ইউএনও আচরণবিধি-সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে কাজ স্থগিত রাখতে বলেন। এতে সবাই হতাশ হয়ে পড়ে। আমি বলেছিলাম নির্বাচনের পরেই খালটি পরিষ্কার করে  দেব। সে অনুযায়ী খাল পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন করি। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এ ধরনের কাজ অব্যাহত থাকবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত