শিশুরা ভবিষ্যতের বাহক। তাদের হৃদয়ে যদি শৈশবেই রমজানের ভালোবাসা বপন করা যায়, তবে তা একদিন বিশ্বাসের বৃক্ষে পরিণত হবে। রমজানের শুরুতে এমনই এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাগলাই শহরে দেখা গেছে, যেখানে আনন্দ, শিক্ষা ও আধ্যাত্মিকতা মিলেছে এক সুরে।
সেখানে ৭০০ শিশুর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রমজান ট্রেন’ অনুষ্ঠান। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদারের লক্ষ্যেই এই শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেয় ম্যাগলাই শহরের ইসলামিক কমিউনিটি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রমজানের আধ্যাত্মিক আবহে শিশুদের সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। প্রতীকী এ ‘রমজান ট্রেন’ কর্মসূচিতে শিশুরা সারিবদ্ধভাবে ট্রেনের মতো এগিয়ে চলে। এটি সম্মিলিতভাবে রমজানের আধ্যাত্মিক পরিবেশে প্রবেশের প্রতীক হিসেবে আয়োজন করা হয়। একই সঙ্গে বয়সোপযোগী শিক্ষামূলক ও আনন্দঘন উপায়ে শিশুদের মসজিদ ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সংযুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ম্যাগলাই স্পোর্টস হলে শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী আয়োজন করা হয়। সেখানে অংশ নেওয়া শিশুদের বিশেষ ব্যাজ দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে তারা রমজানের উপহার গ্রহণের সুযোগ পায়। পরে ইমাম সালিহ সুবাসিচ এবং বিয়ে ও পরিবার বিভাগের সমন্বয়ক আদমির কোভাচেভিচের উপস্থিতিতে একটি শিক্ষামূলক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিশুদের রমজানের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিবারগুলোর কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। বিভিন্ন আনন্দঘন গান ও পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিশুদের জন্য এক আধ্যাত্মিক ও প্রফুল্ল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পরবর্তী সময় শহরের সড়ক জুড়ে শুরু হয় প্রতীকী রমজান ট্রেন শোভাযাত্রা। দীর্ঘ সারিতে শিশুরা হেঁটে যায় ইউসুফ পাশা মসজিদ প্রাঙ্গণে, যা কুরশুমলি মসজিদ নামেও পরিচিত। ম্যাগলাই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ঐতিহাসিক নিদর্শন এই মসজিদ প্রাঙ্গণে পৌঁছে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়ের দৃঢ় সম্পর্কের এক উজ্জ্বল চিত্র ফুটে ওঠে।
মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক কমিউনিটি, পৌর কর্র্তৃপক্ষ ও একদল দাতার সহযোগিতায় প্রস্তুতকৃত রমজান উপহার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। পরে মাগরিবের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। আকাশে বেলুন উড়িয়ে পবিত্র মাসের আগমনকে স্বাগত জানানো হয় আনন্দঘন পরিবেশে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের ধর্মীয় চেতনা জোরদার করতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অল্প বয়স থেকেই রমজান ও মসজিদের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ইসলামী পরিচয় আরও সুদৃঢ় হবে।
ম্যাগলাইয়ের এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, ধর্মীয় শিক্ষাকে আনন্দের সঙ্গে উপস্থাপন করলে তা শিশুমনে গভীর ছাপ ফেলে। পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠতে পারে এমন প্রজন্ম, যারা আত্মিক মূল্যবোধে দৃঢ় এবং মসজিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। এ ধরনের উদ্যোগ সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের এক প্রত্যয়ী পদক্ষেপ।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক
