চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৪৪টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।
লোহাগাড়ার ৯টি ইউনিয়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৩টি। এর মধ্যে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের ৩টি, আমিরাবাদ ইউনিয়নে ৪, পদুয়া ইউনিয়নে ৭, চরম্বা ইউনিয়নে ৫, কলাউজান ইউনিয়নে ৪, সদর ইউনিয়নে ৩, চুনতি ইউনিয়নে ৫, পুটিবিলা ইউনিয়নে ৪ ও আধুনগর ইউনিয়নে ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। এসব বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও শিক্ষক মো. রাসেল জানান, একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক না থাকলে অন্য একজন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তিনিও প্রশাসনিক ব্যস্ততার কারণে ঠিকমতো শ্রেণি কার্যক্রমে যেতে পারেন না। ফলে বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পাঠদানের জন্য অবশ্যই একজন প্রধান শিক্ষক প্রয়োজন।
লোহাগাড়ার পদুয়া ওয়ার্ডবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলক দাশ বলেন, প্রায় দুই বছর এ বিদ্যালয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিয়মিত প্রধান শিক্ষক থাকলে অবশ্যই শিক্ষার গুণগত মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া এ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে।
লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের রাজঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়টি প্রান্তিক এলাকায়। নিয়ম অনুসারে আমাদের শিক্ষক থাকার কথা ছয়জন। কিন্তু আমাদের স্কুলে শিক্ষক আছে তিনজন। এতে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান খুব কষ্টকর। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
লোহাগাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইবনে মাসুদ রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোহাগাড়া উপজেলার ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। এটি আমরা আমাদের চট্টগ্রাম জেলা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। পাঠদানের মানোন্নয়নের জন্য স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের বিকল্প নেই। তবে দ্রুত শূন্য পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে অবশ্যই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
