ঝুঁকিতে ৫ হাজার একর জমির বোরো

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৩৭ এএম

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলে কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকি ও সময়োপযোগী অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে কৃষকদের পাঁচ হাজার একর বোরো জমি। সেই সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে কৃষকদের ভোগান্তির মাত্রা।

কৃষকদের অভিযোগ, নদী-খাল খনন ও সড়ক সংস্কারের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন না হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন ব্যয়, ব্যাহত হচ্ছে সেচব্যবস্থা এবং কৃষকদের মনে আশঙ্কা বাসা বাঁধছে অকাল বন্যার। তবে জেলা কৃষি অফিস বলছে, সমস্যার বড় অংশ ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রায় ১৪ হাজার ৪৩১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে এবং এর থেকে প্রায় ৬৩ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এক কথায়, এই হাওরাঞ্চল কৃষিনির্ভর।

তবে, হাওরের বিভিন্ন বিল, নদী-নালা ও খালের খনন না থাকায় এবং সড়ক অবকাঠামোর দুরবস্থায় কৃষকদের ভোগান্তি থাকে চরমে। রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, খাল-নদীর নাব্য সংকটে সেচের পানি ঠিকমতো  পৌঁছাচ্ছে না ইত্যাদি। চৈত্রের খরায় নদী থেকে খালে পানি প্রবেশ না করায় আশপাশের বোরো ফসল হুমকিতে পড়ে। কোথাও কোথাও বিলের পানি সময়মতো না নামায় দেরিতে আবাদ হয়। ফলে অকাল বন্যা বা ভারী বর্ষণে ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিকলীর দামপাড়া গ্রামের কৃষক মিজান মিয়া জানান, বোরোলিয়া নদীতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে খনন প্রকল্প নেওয়া হলেও নদীর মুখের গুরুত্বপূর্ণ অংশ খনন না হওয়ায় কাঙ্খিত সুফল মেলেনি। তবে সম্প্রতি স্থানীয় কৃষকরা জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে অষ্টগ্রামের টেটা খালের মুখ খনন সম্পন্ন করায় প্রায় আড়াই হাজার একর বোরো জমি রক্ষা পেয়েছে।

সিংপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইয়াকুব মিয়া বলেন, নতুন খালকে ধনু নদীর সঙ্গে যুক্ত করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে আশপাশের প্রায় ৫০০ একর বোরো জমি রক্ষা পেত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অতীতে খাল খননের নামে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, অনেক প্রকল্পে সরকারি অর্থের অপব্যয় হয়েছে। এতে করে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে কৃষকদের।

এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, জোয়ান শাহী হাওরের সমস্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়মিত জেলা সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অষ্টগ্রামের টেটা খালের খনন সম্পন্ন করে প্রায় আড়াই হাজার একর বোরো জমি ঝুঁকি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অবশিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানেও কাজ চলমান রয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত