নিষিদ্ধ জালে জাটকা নিধন

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪০ এএম

পটুয়াখালীর উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগর মোহনায় অবাধে চলছে ইলিশের পোনা (জাটকা) নিধন। অসাধু জেলেরা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, বাঁধা জাল, বেহুন্দি ও গোপজাল ব্যবহার করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জাটকা শিকার করছে। এসব পোনা স্থানীয় হাটবাজারে ‘চাপিলা’ বা ‘চাপলি’ নামে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। বিক্রির অযোগ্য পোনা পরে শুঁটকি বানিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

মৎস্য আইন অনুযায়ী, মাছের পোনা সংরক্ষণে সোয়া চার ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ জেলার নদ-নদীতে আধা ইঞ্চির কম থেকে পৌনে এক ইঞ্চি ফাঁসের জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে জাটকা ও ছোট মাছ নিধন করা হচ্ছে।

পটুয়াখালীর আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, রাবনাবাদ, পায়রা ও তেঁতুলিয়া নদী ইলিশের প্রধান প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সাগরের লোনা পানি ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে আসে। প্রজনন শেষে জাটকা ও পোনা আবার সাগরমুখী হয়। বর্তমানে চলছে জাটকা সংরক্ষণ মৌসুম। এই সময়ে সাগরমুখী জাটকাই শিকার হচ্ছে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিধন চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাজেদুল হক বলেন, ‘প্রজনন মৌসুম শেষে জাটকা ও পোনা যখন মিঠা পানি থেকে লোনা পানিতে প্রবেশ করে, তখনই অসাধু জেলেরা সুযোগ নেয়। এটি আইনবিরোধী।’

রাঙ্গাবালী উপজেলার চর মোন্তাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা খালেক প্যাদা বলেন, ‘সাগর মোহনায় এমনিতেই মাছ কম। তার ওপর প্রতিদিন বাঁধা জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা ধরা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে ইলিশ পাওয়া যাবে না।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এ পর্যন্ত জেলা নদ-নদীতে ৩৪৭টি অভিযান ও ৪৯টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। প্রায় ৬২ টন জাটকা জব্দ করে এতিমখানায় বিতরণ। ৩১টি মামলায় ১৩ জনের কারাদণ্ড, জরিমানা আদায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫ টাকা, ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৪ হাজার ৩৭১টি চরঘেরা ও বেহুন্দি জাল।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ‘পটুয়াখালী একটি জাটকা সংরক্ষণ এলাকা। আমাদের জনবল সীমিত হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে পৌঁছানো কঠিন। এই সুযোগে অসাধু জেলেরা ‘চাপিলা’ নামে পোনা বিক্রি করছে। আমরা নদী মোহনায় টহল জোরদার করেছি, অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত