প্রটোকল ভেঙে অসহায় বাবা প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির দিকে ছুটে গেলেন

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৮ এএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে উদ্ধার হলো অপহৃত ছাত্র আফফান সাঈদ। অপহরণের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর চামেলীবাগ ১৬ নম্বর বিল্ডিংয়ের সাত তলা থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। স্বস্তি ফিরে আসে অপহৃতের পরিবারে।

ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র আফফান সাঈদ। তার বাবা সচিবালয়ের তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীম আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল তিনটার দিকে সাইকেল চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হয় সে। তবে কিছু সময় পরই আফফানের ফোন থেকে তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোন আসে। একমাত্র ছেলের এমন খবরে মুষড়ে পড়েন বাবা শামীম। সচিবালয়েই নিজের অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরিচিত অনেকের কাছে ছেলেকে উদ্ধারের সহায়তা চান। ফোন করেন পরিচিত অনেকের কাছে। তবে অফিস থেকে বের হতেই দেখতে পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হচ্ছেন। প্রটোকল ভেঙেই তার কাছে ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আটকে দেয় নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা। হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন তিনি। এই দৃশ্যটি দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে শামীম আহমেদকে কাছে ডেকে নেন তিনি। ছেলে অপহৃত হওয়ার বিষয়টি জানামাত্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তিনি। নড়েচড়ে বসে ঢাকা মহানগর পুলিশ। দুই ঘণ্টার মধ্যেই অপহৃত ছাত্র আফফান সাঈদকে ঢাকার চামেলীবাগের একটি সাততলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন ভবন থেকে উদ্ধার করে রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদের নেত্বত্বাধীন টিম। স্বস্তি ফিরে আসে ভুক্তভোগী পরিবারে।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় অপহৃত আফফান সাঈদের বাবা শামীম আহমেদের। তিনি বলেন, কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ না হলে হয়তো আমার সন্তানকে এভাবে ফিরে পেতাম না। অপহরণকারীরা প্রথমে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। কিছু সময় পর আমার শ্যালককে ফোন করে ৩০ হাজার টাকা দিতে বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে। পুলিশ কিংবা কাউকে জানালে আফনানকে মেরে ফেলা হবে বলে জানায়।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম এই প্রতিবেদককে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টির তদারকি করেছেন। অল্প সময়ের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় অপহৃত ছাত্রকে উদ্ধার করতে পারায় অনেক ভালো লাগছে বলেন তিনি।

কারা অপহরণ করেছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপহরণকারীরা ওই এলাকারই ছিনতাইকারী এবং মাদকসেবী। বিষয়টি আমরা আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। অন্য কেউ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত