সচিবালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

বন্দরের টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানিকে দেবে না সরকার

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫১ এএম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ব্যবস্থাপনা কোনো বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেবে না সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এনসিটি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকে প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এনসিটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েছেন। এ নিয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এনসিটির ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বৈঠকে জানানো হয়।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কর্মব্যস্ত সময় পার করেন। সকাল ৯টায় তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে শুরুতেই তিনি এনসিটি ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন-সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠক করেন। নীতিনির্ধারণী এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত

নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আগামী ১০ মার্চ থেকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে এই কার্ড দেওয়া হবে। সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। প্রধানমন্ত্রী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সভা শেষে বেরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ঈদুল ফিতরের আগেই সরকার পাইলট ভিত্তিতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা অংশ নেন।

প্রশাসকদের যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী : যোগ দেওয়ার পর গতকাল ছয় সিটির প্রশাসকরা দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি প্রশাসকদের বলেন, ‘আমি গ্রিন ও ক্লিন সিটি চাই।’ সাক্ষাৎ শেষে এ বিষয়ে সিলেটের প্রশাসক এমএ কাইয়ুুম সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী গড়ার লক্ষ্যে ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’ (সবুজ ও পরিচ্ছন্ন শহর) ধারণাটি দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে মশক নিধন, নিরবচ্ছিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছেন তিনি। ছয় মাসের মধ্যে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরী গড়ে তোলার জন্য কার্যকর কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে প্রশাসকদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক আবদুস সালামের কাছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলোর বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘জনগণের যেসব অধিকার বঞ্চিত আছে, সেগুলো যত দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, মশা নিধন করা, ক্লিনিং সিটি সমস্যা এবং নাগরিক যে সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলো তিনি তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব এগুলোর ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজ শুরু করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে সিটি করপোরেশনগুলোয় সফর করবেন প্রশাসকদের কাজ দেখার জন্য।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত