বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-গবেষক, উদীচীর সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ আর নেই। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে ঢাকার নয়া পল্টনের নিজ বাসভবনে মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুখে ভুগছিলেন সফিউদ্দিন আহমদ। তার মৃত্যুতে গতকাল উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন গভীর শোক প্রকাশ এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
গতকাল বাদ জোহর জানাজা শেষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে
অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ ১৯৪১ সালে ১৯ অক্টোবর নরসিংদী জেলার রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা ভাষা ও সাহিত্য গবেষক। শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্বসাহিত্যেও তিনি ছিলেন প-িত ব্যক্তি। তিনি তথ্যসন্ধানী, সমাজমনস্ক এবং প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার একজন মৌলিক গবেষক ছিলেন।
তার গবেষণা গ্রন্থ ডিরোজিও এবং ইয়ং বেঙ্গল মুভমেন্ট ও ডিরোজিও বাংলা গবেষণা সাহিত্যে একটি মৌলিক অবদান হিসেবে স্বীকৃতি। বাংলাদেশে উনিশ শতকের রেনেসাঁর বিশ্লেষণ ও গবেষণায় তার বিশেষ অবদান রয়েছে। তার মতে চর্যাপদের ভাষা বাংলা নয়।
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ১২টি গবেষণাগ্রন্থসহ তার মোট গবেষণাগ্রন্থ পঁয়ত্রিশটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পত্রিকা, বাংলা একাডেমি গবেষণা পত্রিকা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণামূলক পত্রিকা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পত্রিকা, বিশ্বভারতী পত্রিকা ইত্যাদি মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্যপত্রে পঞ্চাশটি গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।
ছাত্রজীবনে অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তিনি দুবার জেল খেটেছেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় ২০০৫ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। এর আগে সিলেটের এমসি কলেজে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। শুধু দেশে নয়, বিদেশেও তার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন তার মৃত্যুতে সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যম গতকাল ছিল শোকাচ্ছন্ন। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ২০২২ সালের জুন মাস এই দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে উদীচী নেতারা বলেন, ড. সফিউদ্দিনের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির জগতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা পূরণ হওয়ার নয়। তার মৃত্যুতে উদীচী একজন অভিভাবক হারা হলো। অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের মৃত্যুতে উদীচী নেতারা তার পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
