ইসরায়েলে একঝাঁক মার্কিন যুদ্ধবিমান অবতরণ

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

ইসরায়েলের একটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর একঝাঁক শক্তিশালী স্টিলথ ফাইটার জেট। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে ওই ফাইটার জেটগুলো অবতরণ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রায় এক ডজন (১২টি) এফ-২২ র‍্যাপ্টর যুদ্ধবিমান দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। পঞ্চম প্রজন্মের এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো মূলত আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে এবং শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিয়ে নিখুঁত হামলায় সক্ষম। সংবাদটি আরও জানিয়েছে, এই বিমানগুলো বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানের মধ্যে অন্যতম এবং এগুলো শুধু যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে। এদের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে- শত্রু অঞ্চল ভেদ করা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনা অকার্যকর করা।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারমাণবিক আলোচনায় তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর পারস্য উপসাগর অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলা আলোচনার স্থবিরতা এবং তেহরানের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগে দ্বিধা করবে না। এই মোতায়েনকে ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতির অংশ এবং ইরানকে একটি কড়া সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সর্ববৃহৎ সামরিক সমাবেশ এই মোতায়েনটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক প্রস্তুতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। বর্তমানে অঞ্চলে দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী (ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড) মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া এফ-৩৫, এফ-১৫ এবং এফ-১৬ এর মতো কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও কয়েকশ কার্গো ফ্লাইট গত কয়েক দিনে অঞ্চলে প্রবেশ করেছে। ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের পর এটিই এই অঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর সবচেয়ে বড় সমাবেশ বলে দাবি করছেন সামরিক পর্যবেক্ষকরা।

এদিকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান যদি কোনো পাল্টা হামলার চেষ্টা করে, তবে এই স্টিলথ ফাইটারগুলো আকাশপথেই তা রুখে দিতে এবং প্রয়োজনে ইরানের অভ্যন্তরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে মূল ভূমিকা পালন করবে। অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সামরিক উপস্থিতি যুদ্ধ নাকি কূটনীতি-কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত