বগুড়ায় তিনযুগেও চালু হয়নি বেতার কেন্দ্রের নিজস্ব সম্প্রচার

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এরপর ১৯৮৯ সাল থেকে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলে করে প্রচার করা শুরু হয়। প্রচার শুরু হওয়ার পর ৩৬ বছর ধরে কেন্দ্রটির এখন অব্দি রাজশাহী বেতারে অনুষ্ঠান রিলে প্রচার করে যাচ্ছে। নিজস্ব কোন অনুষ্ঠান আজ অব্দি প্রচার হয়নি বগুড়ার এই বেতার কেন্দ্র থেকে। এ অঞ্চলের সংস্কৃতি কর্মীরা বেতারকেন্দ্রটি বার বার চালুর দাবিতে আন্দোলন করলেও শুধু আশ্বাসই মিলেছে পূর্ণাঙ্গ চালুর। কিন্তু তা আজও বাস্তবে রূপ নেয়নি। অথচ বগুড়ার অনেক শিল্পী রংপুর ও রাজশাহী বেতারে নিয়মিত কাজ করছেন।

বগুড়া শহর থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার পশ্চিমে কাহালুর দরগাহাটে ২৫ একর ভূমির ওপর বাংলাদেশ বেতারের বগুড়া কেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ১৯৮৭ সালে। বর্তমানে সাইনবোর্ডে বাংলাদেশ বেতার, কাহালু, বগুড়া লেখা হয়েছে। মাইক্রোওয়েভ লিঙ্কে উচ্চশক্তির ট্রান্সমিটারের ক্ষমতা ১০০ কিলোওয়াট। ১৯৮৯ সালে বগুড়া বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশ বেতারের রাজশাহী কেন্দ্রের অনুষ্ঠান প্রেরণ (রিলে) কার্যক্রম শুরু হয়। ঐ সময়েই বগুড়া বেতার কেন্দ্রের স্বকীয়তা নিয়ে স্বতন্ত্র বা নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচারের দাবি ওঠে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে বগুড়ার সংস্কৃতি কর্মীরা কাহালু বেতার কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ চালুর দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তৎকালীন সরকারের উর্ধতন কর্মকর্তারাও পূর্ণাঙ্গ চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা যায় বগুড়া জেলা বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের শিল্পী ও  কলাকুশলীরা রংপুর কেন্দ্রে অনুষ্ঠান তৈরিতে অংশগ্রহণ করলেও দূরত্ব কভারেজ এরিয়ার মধ্যে না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষ সেসব অনুষ্ঠান শুনতে পারেন না। এদিকে বাংলাদেশ বেতার বগুড়া নামে ঘোষণা প্রচার না হওয়ায় এ অঞ্চলের শ্রোতা রাজশাহী কেন্দ্রের অনুষ্ঠান শোনে, যা রিলে অনুষ্ঠান।

বগুড়ার সংগীতশিল্পী প্রণব স্যানাল ২০০৪ সাল থেকে রংপুর বেতারে গান করছেন। তিনি বলেন, বগুড়ার অনেক প্রতিভাবান শিল্পী রয়েছে যারা রংপুর বেতারে কাজ করছে। বগুড়া থেকে রংপুর বেশ দূরে। আমরা আন্দোলন করেছি বগুড়া বেতার কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ চালুর দাবিতে। কিন্তু আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু আজও চালু হয়নি। তিনি আরও বলেন, এই কেন্দ্রে সব রয়েছে শুধু একটা স্টুডিও নির্মাণ করে তার সাথে কলাকুশলীদের নিলেই পূর্ণাঙ্গরুপে চালু করা সম্ভব।

বগুড়ার বাচিকশিল্পী এইচ আলীম এবং অলক পাল বলেন, আমরা প্রায় সারাদেশেই কবিতা আবৃত্তি করি। কাজ করছি অনেকদিন ধরে। বগুড়ার সংস্কৃতির ইতিহাস অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের দাবি যতদ্রুত সম্ভব বগুড়ার কাহালু বেতার কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ চালু করা হোক।

রংপুর বেতারের শিশু শিল্পী সৌমিকা লাহিড়ী ও ঋক স্যানাল বলেন,  রংপুর বেতার আমাদের জন্য অনেক দুর। সেখানে যেতে অনেক সকালে বের হতে হয়। কণ্ঠের অবস্থা অনেক সময় খারাপ হয়ে যায়। বগুড়ার বেতার কেন্দ্রটি চালু হলে আমাদের গানের চর্চা আরও ভাল হতো। বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক বলেন, বগুড়ার অনেক গুণী শিল্পী রয়েছে। যারা সারদেশে নাম কুড়াচ্ছে। অথচ বগুড়ার কাহালু বেতার কেন্দ্রটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বার বার আশ্বাস দিলেও পূর্ণাঙ্গ চালু করা হচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন ইসলাম তুহিন বলেন, বগুড়ার এই বেতার কেন্দ্রটি ৩৬ বছর ধরে রাজশাহী বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলে করে যাচ্ছে। অথচ বগুড়ার অনুক গুণী শিল্পী রয়েছে। অনেক সংবাদ মাধ্যম রয়েছে ভাল সংবাদ প্রচার করছে। তাই আর বৈষম্য না করে কাহালু বেতার কেন্দ্রকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ চালু করে বৃহত্তর বগুড়ার শিল্পী ও কলাকুশলীদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ দেয়া হোক।

বাংলাদেশ বেতার কাহালু সম্প্রচার কেন্দ্রের আবাসিক প্রকৌশলী তারেক বিন এমদাদ জানান, বগুড়া বেতার কেন্দ্র নিজস্ব অনুষ্ঠান প্রচারের সব আয়োজন করতে পারে। সেই ক্ষমতা আমাদের আছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা ক, খ, গ কেন্দ্র ছাড়াও চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, ঠাকুরগাঁও, রাঙ্গামটি, কক্সবাজার, কুমিল্লা, বান্দরবান ও বগুড়া কেন্দ্ৰ চালু আছে। এর মধ্যে শুধু বগুড়া বেতার কেন্দ্র থেকে নিজস্ব কোনো অনুষ্ঠান প্রচার করা হয় না।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ বেতারের বগুড়া কেন্দ্রটির শুধু বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী কেন্দ্রের অনুষ্ঠান রিলে করা হয়। বাংলাদেশ বেতারের অন্য কেন্দ্র যখন নিজস্ব অনুষ্ঠানে সমৃদ্ধ হচ্ছে তখন, উচ্চশক্তির প্রেরণ ক্ষমতার বগুড়া কেন্দ্রটিকে শুধুই সম্প্রচার কেন্দ্র হিসেবে করে রাখা হয়েছে। এদিকে বগুড়ার সংস্কৃতি কর্মীরা ও সচেতন মহলের মানুষরা বলছেন, শুধু রাজনৈতিক কারণে এতদিন বগুড়া বঞ্চিত ছিল। তাই বগুড়ার উন্নয়নে আর কোন অবহেলা মেনে নেয়া হবে না।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত