খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মিজানুর রহমান মিজানের জামাতা কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন ৫ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। তাকে উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আজ বুধবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার।
খুলনা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের বাবা কাজী আব্দুস সোবহান বলেন, তিনি খুলনা শহরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আমার ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন নিজ বাসভবনে ইফতার করে। এরপর ৭টা ৫৬ মিনিটে সে পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায় করতে যায়।
তিনি বলেন, মসজিদে সে নামাজ আদায় করে প্রায় আধা ঘণ্টা পর মসজিদ থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় সে মসজিদ থেকে বের হয়ে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। এরপর আর তাকে দেখা যাচ্ছে না। মসজিদের সামনে থেকে সুজনের নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা খুবই রহস্যজনক।
আব্দুস সোবহান বলেন, সে রাতে আত্মীয়-স্বজন, সুজনের বন্ধু বান্ধবসহ পরিচিত সব স্থানে খোঁজ নিয়ে কোনও সন্ধান না পেয়ে পরেদিন ২২ ফেব্রুয়ারি আমি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করি। এ ছাড়া পুলিশের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তা, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সুজনকে উদ্ধারে সহযোগিতা চাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে এখনও সুজনকে উদ্ধার বা তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে আমি এবং আমার পরিবার মানুষিকভাবে ভেঙে পড়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমার একমাত্র ছেলে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন রাজনীতির সাথে যুক্ত না। কোনোদিন রাজনীতি করেওনি। আমার সব ব্যবসা-বণিজ্য সে দেখাশুনা করত। আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনও মামলাও নেই। কারো সঙ্গে কোনও শত্রুতাও নেই। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া আর কোথাও সে যেত না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে আমার ছেলে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছে। আমি আমার সন্তান নিয়ে সব সময়ই গর্ববোধ করি। এমন ছেলে কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।
তিনি বলেন, খুলনার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে আমি এই শহরের সকল শ্রেণির মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা করি। অথচ আজ আমি আমার একমাত্র ছেলের সন্ধান পাচ্ছি না। আমি এবং আমার পরিবার আপনাদের মাধ্যমে আমার একমাত্র ছেলেকে উদ্ধারে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। খুলনার আইনশৃংখলা বাহিনীর সকল ইউনিটের প্রতি দাবি জানাচ্ছি যে- আমার সন্তানকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে আপনারা জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করুণ। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ সুজনের মা, স্ত্রী ও একমাত্র ৫ বছরের সন্তান উপস্থিত ছিলেন।
