ডায়াবেটিস হলে অতিরিক্ত মিষ্টি বা চিনি বারণ করা হয়। কিডনিতে পাথর জমার আশঙ্কা থাকলে অক্সালেটযুক্ত খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। চর্বিজাতীয় খাবার আবার হার্টের জন্য খারাপ। অনেকেরই ধারণা, থাইরয়েডকেও একই ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আসলে সাধারণ মানুষের ধারণা ডায়েট থেকে কিছু খাবার ছেঁটে ফেললেই বোধহয় থাইরয়েড হরমোনকে স্বাভাবিক মাত্রায় আনা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসরা বলছেন, থাইরয়েডের সমস্যা ঠেকিয়ে রাখতে ডায়েটের ভূমিকা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো খাবার খেলে বা বাদ দিলেই যে থাইরয়েড সেরে যাবে এমনটা নয়। তবে বেশ কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো এই হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে থাইরয়েড কিন্তু এখন আর শুধু আয়োডিনের ওপর নির্ভর করে না। হাইপোথাইরয়েড, হাইপারথাইরয়েড কিংবা অটোইমিউন রোগ হাসিমোটো থাইরয়ডিটিসে আক্রান্তের সংখ্যা এখন অনেক।
আয়োডিন জরুরি তবে তার নির্দিষ্ট পরিমাণ আছে। শারীরবৃত্তীয় কাজকর্ম পরিচালনা করার জন্য যে পরিমাণ আয়োডিন প্রয়োজন, তা রান্নায় ব্যবহারের লবণ থেকেই পাওয়া যায়। প্রতিদিন ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন শরীরে গেলেই থাইরয়েড হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
এ ছাড়া রোজের ডায়েটে প্রোটিন এবং ফাইবার রাখাও জরুরি। যাদের হাইপোথাইরয়েড রয়েছে, তাদের চট করে ওজন বাড়তে চায় না। আবার অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাতেও ভোগেন। ডায়েটে প্রোটিন এবং ফাইবার পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে দুটি সমস্যাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। ক্রসিফেরাস ভেজটেবল অর্থাৎ বাঁধাকপি, ফুলকপি, শর্ষে শাক, ওল কপি, ব্রকোলিকে চিকিৎসকরা গয়োট্রজেনিক ফুডও বলে থাকেন। আসলে এ ধরনের সবজি আয়োডিনের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে। থাইরয়েডের জন্য তা বিপজ্জনক। বিশেষ করে যাদের রক্তে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের জন্য সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে।
