দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েই বিশ্ব জুড়ে শুল্কারোপের মাধ্যমে বাণিজ্য যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই শুল্ককে কেন্দ্র করে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র টানাপড়েনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও নানামুখী আলোচনার পর উভয়পক্ষই কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ায় জল ততটা ঘোলা হয়নি। এর মধ্যেই আগামী মাসে বেইজিংয়ে এক রাজকীয় অভ্যর্থনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু এই সফরের ঠিক আগে তার অন্যতম প্রধান অস্ত্র ‘শুল্ক নীতি’ নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায় ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থানে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ফলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার আগে আলোচনার সমীকরণ নতুন করে সাজাতে হচ্ছে হোয়াইট হাউজকে।
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের একটি বিশেষ ক্ষমতা খর্ব করেছে। আদালত জানিয়েছে, ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট-এর আওতায় প্রেসিডেন্ট আর হুটহাট শুল্ক বসাতে পারবেন না। তবে দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প। আদালতের রায়কে পাশ কাটিয়ে বিশ্ব জুড়ে নতুন ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। যদিও মঙ্গলবার থেকে এটি ১০ শতাংশ হারে কার্যকর হয়েছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ফেলো জংইউয়ান লিউ বলেন, এটি একটি স্পষ্ট সংকেত যে প্রেসিডেন্ট এখন চাইলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবেন না। বেইজিং অবশ্যই বিষয়টিকে ট্রাম্পের দুর্বলতা হিসেবে দেখবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই রায় বেইজিংকে তাৎক্ষণিক বড় কোনো অর্থনৈতিক স্বস্তি না দিলেও এটি তাদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক জয়। কারণ, গত বছর ট্রাম্প এই আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করেই চীনের ওপর শুল্কের হার ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিলেন। যদিও চীনের ওপর মূল শুল্কগুলো (সেকশন ৩০১) এখনো বহাল আছে, তবে ট্রাম্পের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী একটি অস্ত্র এখন ভোঁতা হয়ে গেল। ওয়াশিংটনের স্টিমসন সেন্টারের পরিচালক ইউন সান মনে করেন, এটি ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার কৌশলের ওপর একটি রাজনৈতিক আঘাত।
