পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় চারটি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ (মহল্লাদার) শূন্য পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৮ জন প্রার্থীর একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। লিখিত পরীক্ষায় জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে লিখতে বলা হলে কেউই তা সম্পূর্ণ ও নির্ভুলভাবে লিখতে সক্ষম হননি। পরে পরীক্ষাই বাতিল করা হয়।
গত বুধবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া, তিরনইহাট, শালবাহান ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের পাঁচটি মহল্লাদার পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অষ্টম শ্রেণি পাস চাওয়া হয়। ৩৮ জন প্রার্থী কোনো ফি ছাড়াই আবেদন করেন।
পরীক্ষার শুরুতে প্রার্থীদের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর নিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সবাইকে জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। এজন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো প্রার্থীই জাতীয় সংগীত সম্পূর্ণ ও শুদ্ধভাবে লিখতে পারেননি। ফলে কেউ উত্তীর্ণ না হওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি।
এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামপুলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সাধারণ জ্ঞান নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করায় নিয়োগ কমিটির প্রশংসা করছেন অনেকে।
প্রার্থীরা উত্তীর্ণ না হওয়ায় পরে পুনরায় নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে।
নিয়োগ কমিটিতে উপস্থিত ছিলেন তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ, তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী খান, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি আফরোজ শাহীন খসরু বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘শারীরিক যোগ্যতা যাচাই শেষে মেধা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে জাতীয় সংগীত লিখতে দেওয়া হয়। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কোনো প্রার্থীই সঠিকভাবে লিখতে পারেননি। চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ জ্ঞান ও দেশপ্রেমের প্রাথমিক ধারণা থাকা আবশ্যক। জাতীয় সংগীতের মতো মৌলিক বিষয়ে এমন অজ্ঞতা উপস্থিত কর্মকর্তাদের হতবাক করেছে।’
