আট বছর ধরে অরক্ষিত পাবনা রেলস্টেশন

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

পৌনে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলপথের অন্যতম আধুনিক স্থাপনা পাবনা রেলস্টেশন এখন অযতœ আর অবহেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। জনবল সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্টেশনের লাখ লাখ টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। চুরি হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক তার, ফ্যান ও জানালার সরঞ্জাম। সন্ধ্যা নামলেই স্টেশন চত্বরে বসছে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের আসর। ফলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন যাত্রী ও রেলকর্মীরা।

জানা গেছে, আট বছর আগে ২০১৮ সালে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ করে চালু হয় এই রেলপথ। প্রকল্পের আওতায় পাবনা স্টেশনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুটি সুসজ্জিত অফিসার্স কোয়ার্টার এবং প্ল্যাটফর্মের পাশে পাঁচটি কক্ষবিশিষ্ট তিনটি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের আট বছর পেরিয়ে গেলেও এসব ভবন আজও অব্যবহৃত পড়ে আছে। নিয়োগ দেওয়া হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল।

স্থানীয়রা জানান, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও ভবনগুলোর থাই অ্যালুমিনিয়াম, লোহার দরজা, ফ্যান এবং দামি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম একে একে চুরি হয়ে গেছে। এমনকি পানি সরবরাহের জন্য বসানো সাবমারসিবল পাম্প ও টিউবওয়েলের যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। স্টেশনের বাতিগুলো নষ্ট থাকায় রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার বিরাজ করে। সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় পুরো স্টেশন এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা আজাহার আলী বিশ্বাস বলেন, ‘এত বড় স্টেশনের নিরাপত্তার জন্য মাত্র দুজন কর্মী আছেন। আমি বুকিং সহকারী হয়েও মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছি।’

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) লিয়াকত শরীফ খান বলেন, ‘পাবনা রেলস্টেশনে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ট্রেনের সংখ্যা বাড়লে কাজের পরিধি বাড়বে এবং জনবল সংকটও কেটে যাবে।’ রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তিনি স্থানীয় সচেতন মহলের সহযোগিতাও কামনা করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত