অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা ৩ মন্ত্রীর

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

সিলেটে সরকারি সেবা প্রদান এবং উন্নয়ন কর্মকা- বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলা সহ্য করা হবে না। এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের এমনই কড়া বার্তা দিয়েছেন সরকারের তিনজন মন্ত্রী। গতকাল শনিবার সিলেট সার্কিট হাউজে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠকে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে যেন কোনো অনিশ্চয়তা না থাকে, সে বিষয়ে সরকার নজরদারি করছে। কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে। বাংলাদেশে ট্যাক্স জিডিপির রেশিও অনেক কম। আশপাশের সব দেশে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের যা রাজস্ব আদায় হয় তা সরকারের খরচ মেটাতে চলে যায়। উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স জিডিপির রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তি খাতে কর বাড়বে না। মন্ত্রী জানান, ‘স্বল্পোন্নত দেশে (এলডিসি) উত্তরণের পর সম্ভাব্য বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রপ্তানি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে ও বাজার বহুমুখীকরণে এ পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথম দু’একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অহেতুক বেড়ে গিয়েছিল। এখন আবার আগের অবস্থায় চলে এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সিলেট অঞ্চলে নদী ও খাল খনন, হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। কাজের মান ও সময়সীমা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিলেট অঞ্চলে প্রতি বছরই পাহাড়ি ঢলের পানি আসে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে এখানে বন্যা হয়। এটি মোকাবিলা আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এখানে দ্রুত যেসব কাজ করা প্রয়োজন তা করা হবে। যৌথ নদী কমিশনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য কাজগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নিয়েই কাজ শুরু করেছি। এদেশ থেকে অনেক টাকা পাচার হয়েছে, দুর্নীতি নামক ব্যাধি আমাদের আঁকড়ে ধরেছিল। সুতরাং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা আমাদের একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার আবার চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত