মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

বগুড়ায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সামিউল হাসান শুভ নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সদর থানা পুলিশ বলছে, ওই ব্যাংক কর্মকর্তার পরিবার থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

সামিউল হাসান শুভ (৩৩) জেলার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা এবং শহরে বসবাস করতেন। তিনি জনতা ব্যাংক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা ছিলেন। মৃত্যুর পর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা এটিকে হত্যাকান্ড বলে অভিযোগ করেছিলেন। জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বগুড়ায় ১৯টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সবশেষে অনুমোদন পেয়েছে। প্রতিটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ম অনুযায়ী পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ব্যাংক কর্মকর্তা শুভ মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে হঠাৎ ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন শুভ। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন কয়েক মাস ধরে। সর্বশেষ চলতি মাসের শুরুতে মানসিক রোগবিশেষজ্ঞ ডাক্তার বাপ্পা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতির কারণে, তাকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তির পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি শহরের সাবগ্রাম এলাকায় মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছিলেন শুভ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শুভ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে নিরাময় কেন্দ্রের লোকজন। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা জানান, তারা হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, শুভর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে শারীরিক নির্যাতনে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে এমন দাবি করেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত