ঢাকা পলিটেকনিকে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ এএম

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পালটা ধাওয়া এবং দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে রূপ নেয়। উত্তেজিত নেতাকর্মীরা লতিফ ছাত্রাবাসের ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষে হামলার ঘটনা ঘটায়। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং রাতভর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করে।

এই ঘটনার পর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, শিবিরের কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসের কক্ষে ঢুকে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাদের এক সহযোদ্ধাকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আবু সাদিক কায়েম পালটা অভিযোগ করেছেন। তার মতে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাতের অন্ধকারে ছাত্রাবাসে ঢুকে শিবির কর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। তিনি একে ক্যাম্পাসগুলোতে ‘দখলদারত্ব ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারকে ক্যাডার বাহিনী সামলানোর আহ্বান জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যরাতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এতে ৪ জন গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ছাত্রাবাস প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেবে এবং কেউ আইনি ব্যবস্থা নিতে চাইলে পুলিশ তা গ্রহণ করবে।

বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা এবং পুনরায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত