উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এবারের ঈদযাত্রা থমকে যেতে পারে এলেঙ্গা মাহাসড়কে। ঢাকান্ডটাঙ্গাইল মহাসড়ক এবং ঢাকান্ডময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের অনেক জায়গার যানজট অন্য বছরের তুলনায় স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে সড়ক অবরোধ ও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া চন্দ্রা মোড়সহ বিআরটির নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনা ভোগান্তি বাড়াতে পারে।
ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যায়। ঢাকান্ডটাঙ্গাইল মহাসড়ক ব্যবহার করে ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদযাত্রায় এ সড়কে যান চলাচল স্বস্তিদায়ক হবে বলে প্রশাসন প্রত্যাশা করছে।
এলেঙ্গায় এক কিমি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সেখান থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপাড় পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কে চারলেনের কাজ ৫০ ভাগ শেষ হয়েছে। এতে করে সড়কটির পরিপূর্ণ চারলেন ব্যবহার হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গসহ ২১টি জেলার ১৫ থেকে ২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদযাত্রায় তা বেড়ে হয় তিনগুণ।
বিগত বছওে এই মহাসড়ক অনেকটাই যানজটমুক্ত ঈদযাত্রা ছিল। এলেঙ্গায় এক কিমি ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় সড়কের পরিধি কমে গেছে। এতে এলেঙ্গায় যানবাহনের জটলা তৈরি হতে পারে। আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, এ বছর ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার রাস্তায় যাত্রীরা ফোর লেনের রাস্তার সুবিধা পাবে। ঈদ উপলক্ষে সড়কটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির পাভেল বলেন, যানবাহন যাতে নির্বিঘেœ সেতু পার হতে পারে সে বিষয়ে সেতু কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত। এবারের ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুতে টোল আদায় সার্বক্ষণিক চালু থাকবে।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, গত ঈদযাত্রার দুর্বলতা চিহ্নিত করে নানামুখী নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার মহাসড়ককে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। যানজট নিরসনে মহাসড়কে প্রায় সাত শতাধিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে বলেও তিনি জানান।
প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের প্রধান ভোগান্তির কারণে হিসেবে গাজীপুরের চন্দ্রাকেই চিহ্নিত করা হয়। এ বছরও চন্দ্রা মোড়ে ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে নানা পরিকল্পনা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঈদের ছুটিতে সড়কে অতিরিক্ত যাত্রী এবং অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে ব্যাপক জটলা তৈরি হয়। এতে সমগ্র ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা যানজট নিরসনে কাজ করে।
গাজীপুর নাওজোর কোনাবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক শওগাতুল আলম বলেন, চন্দ্রা থেকে যানবাহন টাঙ্গাইলের দিকে পার করে দিতে গেলে দেখা যায়, টাঙ্গাইলের গোড়াইসহ বিভিন্ন স্থানে যানজটের কারণে এ যানজট পেছন দিকে চন্দ্রা, নবীনগর, গাজীপুর চৌরাস্তার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সবকিছু মাথায় রেখে যানজটমুক্ত পরিবেশে মানুষকে ঘরে ফেরাতে সবরকম চেষ্টা করা হবে।
ঈদে ঘরমুখো ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত বিআরটি সড়কও। সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গী থেকে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সড়কে নির্মাণাধীন বিআরটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় দেড় বছর ধরে। সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণও করা হয় না। চার লেনের সড়কটি যানজট শুরু হলে কোথাও কোথাও দুই লেন হয়ে যায়। আব্দুল্লাহপুর থেকে যানবাহনগুলো গাজীপুরের দিকে যেতে থাকলে টঙ্গী স্টেশন রোড, চেরাগআলী এবং কলেজগেট দিয়ে তিনটি লুপ নেমেছে। যানবাহনগুলো এ লুপ দিয়ে নামার সময় যানজটের কবলে পড়ে। কারণ হিসেবে দেখা গেছে, ফ্লাইওভারের নিচে যাত্রীরা বাসের জন্য অপেক্ষা করার কারণে বাসগুলো যাত্রী ওঠাতে গেলে পেছনে যানবাহনের দীর্ঘ সারিতে যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া বিআরটি লেন দিয়ে নিয়ম শৃঙ্খলা না মেনে বিভিন্ন পরিবহন চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। টঙ্গী থেকে স্টেশন রোড হয়ে ঢাকান্ডসিলেট মহাসড়কের মিরের বাজার, পুবাইল কলেজ গেট এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। ঈদযাত্রায় এ যানজট তীব্র আকার ধারণ করে।
